সোমবার, ৭ই এপ্রিল, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

অনির্দিষ্ট কর্মবিরতিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির আউটসোর্সিং কর্মচারীরা

 

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
চাকুরী স্থায়ীকরণসহ ৫ দফা দাবিতে দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অস্থায়ী কর্মচারীরা অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে দাপ্তরিক কাজে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
বেতন বৈষম্য, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা, ওভার টাইম ও উৎসব বোনাস, নৈমিতৃক ছুটি ও মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ পাচ দফা দাবিতে কেন্দ্রীয় আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের ডাকা কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আজ রোববার সকাল থেকে খনির ভিতর শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে এই কর্মবিরতি পালন করেন তারা।
আউটসোর্সিং কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘ ১৫/২০ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে সেবা দিয়ে আসছেন তারা। একই প্রতিষ্ঠানে একই পদে চাকুরী করলেও স্থায়ী কর্মচারীদের তুলনায় বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। বেতন বৈষম্যের সাথে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বৈশাখী ভাতা, উৎসব ভাতা থেকে দীর্ঘ দিন থেকে বঞ্চিত অস্থায়ী কর্মচারীরা।
তারা বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে ২০১৮ সালে প্রজ্ঞাপণ জারী করে আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ওভার টাইম, উৎসব বোনাস, মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা বাতিল করা হয়। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েন খনির অস্থায়ী ২৮০ কর্মচারী। এরপর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকারের পতন হলে আশার আলো জাগে কর্মচারীদের মনে।
তারা বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের ব্যানারে ঢাকায় আন্দোলন করেন। তখন প্রধান উপদেষ্টা পরিষদ বৈষম্য নিরোসনে বিবেচনার আশ্বাস দিলে আন্দোলন শিথিল করে কাজে যোগ দেয়। কিন্তু ৬ মাসেও দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ না নেয়ায় আবারও আন্দোলনে যায় কর্মচারীরা। সেই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই কর্মবিরতি পালন করছেন তারা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে কথা বললে খনির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ জানান, সারাদেশের আউটসোর্সিং কর্মচারীদের সাথে খনির ২৮০ কর্মচারীও কর্মবিরতি পালন করছে। এতে দাপ্তরিক কাজের কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে, তবে কয়লা উৎপাদনে কোন প্রভাব পড়বে না।

Share This