
হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হওয়ায় কেজিতে অন্তত ৪০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে। দামের দাপট কমে আসায় ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরণের স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত ২দিন আগেও এই মসলাজাতীয় পণ্যটি ১২০-১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।
এদিকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল রোববার বিকালে ৩০ মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানি হয়। আজ সোমবার বেলা ২টা পর্যন্ত ভারত থেকে কোন পেঁয়াজের চালান বন্দরে আসেনি। তবে বিকাল থেকে আমদানি শুরু হতে পারে বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
বন্দরের স্থানীয় কাচা বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আজ সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১২০ টাকায় দেশি শুকনা পেঁয়াজ এবং ৭০ টাকায় কাচা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। আর সদ্য আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমদানি করা পেঁয়াজের দাম এখনো চড়া রয়েছে।
হিলি বাজারের খুচরা বিক্রেতা মোকারম হোসেন জানান, ভারতীয় পেঁয়াজের চেয়ে দেশি পেঁয়াজের দাম কম আছে। ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও দেশি কাচা পেঁয়াজ ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা দেশি পেঁয়াজই বেশি কিনছেন। তবে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেড়ে গেলে ২/১ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম আরও কমে আসবে। বাজারে শনিবার পর্যন্ত ১২০-১৩০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।
হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুল করিম, নাফিস হোসেন জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে আসায় দাম কমেছে। গত শনিবার আমরা ১২০-১৩০ টাকা দরে দেশি পেঁয়াজ কিনেছি। গতকাল সোমবার বাজারে পেঁয়াজ ৮০-৮৫ টাকায় কিনতে পারছি। এই কয়েকদিনের ব্যবধানে কেজিতে অন্তত ৩৫-৪০ টাকা কমেছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ না আসলে দাম আরও বেড়ে যেত।
বন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক আতিক হাসান রুবেল জানান, ভারতের নাসিক থেকে ২৪৫ ডলারে প্রতিটন পেঁয়াজ আমদানি করতে হচ্ছে। এর সাথে গাড়ী ভাড়া, কাস্টমস শুল্ককর সহ বিভিন্ন খরচ মিলে ৪০ টাকা হচ্ছে। তবে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট থাকে। সব খরচ ধরে আমাদের হিসাব করতে হয়।
তিনি আরও জানান, গতকাল রোববার হিলি দিয়ে আমরা ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানি করি। কিন্তু সেদিন পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারিনি। আজ সোমবার সকালে আমদানি করা এই পেঁয়াজ বন্দরে ৭৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। পুরোপুরি আমদানি শুরু হলে দাম অনেক কমে আসবে।
জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের বাজারে দাম নিয়ে অস্থিরতা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দাম বেড়ে ১৩০-১৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। এই অবস্থায় সরকার দামের লাগাম টানতে আমদানি করার অনুমতি করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে গতকাল রোববার আমদানিকারকরা অনুমতি পেয়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেন। এরফলে বাজারে কমতে থাকে সব ধরণের পেঁয়াজের দাম।
হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা (আর ও) এম আর জামান বাঁধন জানান, ভারত থেকে প্রতি মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ককর নির্ধারণ করা আছে। আমদানিকারকরা এই শুল্ক পরিশোধ করে পেঁয়াজ খালাস করে নিতে পারছেন। তাতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ আমদানিতে ৫ টাকা ১৯ পয়সা পড়ে।
তিনি আরও জানান, গত ৩০ নভেম্বর থেকে দেশে চাল আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে হিলিতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনেক কমে গেছে। এখন পুরোদমে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলে আবারও বন্দরটি গতি ফিরে পাবে।