শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কাহারোলে টিকে থাকতে পারছেনা হাসকিং মিল

কাহারোল প্রতিনিধি
দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় ১০৪ টি চাল কল ও চাতাল বন্ধ থাকছে বছরের অধিকাংশ সময়। মিল মালিকেরা বলছেন, অটো রাইস মিলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে হাসকিং মিল চালানো যাচ্ছে না। হাসকিং মিল বন্ধের কারণে এই পেশায় নিয়োজিত প্রায় ২ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পরেছে। তারা এখন এই পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় কাজ করছেন। অধিকাংশ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ার কারণে অতি কষ্টে জীবন জাপন করছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। হাসকিং মিল বন্ধ থাকার কারণে মিল মালিকদের বিপুল পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কাহারোল উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, বিগত বছরগুলিতে ১৪৮টি হাসকিং মিল চালু ছিল। বর্তমানে ১০৪টি হাসকিং মিল ও চাতাল বন্ধ রয়েছে। এতে করে যে সকল শ্রমিকেরা মিলে কাজ করত তারা এখন বেকার হয়ে পড়েছে।
কাহারোল উপজেলায় ইরি বোরো মৌসুমে ধান কাটা শুরু হলে চাল কল গুলোতে রাত দিন চলে ধান সিদ্ব, শুকানো ও ভাঙ্গানোর কাজ। উপজেলা হতে প্রতিদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন ট্রাক যোগে চাল পাঠাতো মিল মালিকগণ। বর্তমানে কাহারোল উপজেলা হতে চাল পাঠাতে পারছেনা মিলাররা। মিল মালিক মোঃ আকরাম জানান, বর্তমানে বাজারে ধানের দাম বেশি চাল বানাতে গেলে হাসকিং মিলে সময় বেশি লাগে এতে খরচ বেশি পড়ে চাল উৎপাদনে। অটো রাইস মিলে চালের উৎপাদন খরচ কম পড়ায় প্রতিযোগিতায় অটো রাইস মিলে সঙ্গে টিকে থাকা যাচ্ছে না। একই কথা বলেন, মোঃ নাইমুল ইসলাম তিনি বলেন, অটো রাইস মিল যখন ছিলনা তখন হাসকিং মিলের চালের চাহিদা ছিল বেশি। অটো রাইস মিল হওয়ার কারণে অটো রাইস মিলের চালের চাহিদা বৃদ্ধি পাঁচ্ছে ক্রেতাদের কাছে।
কাহারোল উপজেলার হাট বাজার গুলোতে প্রতি মন ধান বিক্রি হচ্ছে ১৩ শত ৩০ টাকা থেকে ১৩ শত ৪০ টাকা। কাহারোল উপজেলা চাল কল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবদুল মান্নান জানান, বর্তমানে ধানের দাম বেশি চাহিদা অনুযায়ী হাসকিং মিল গুলো ধান পাঁচ্ছে না। কাহারোল উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহিন রানা জানান, ১৪৮টি হাসকিং মিলের মধ্যে ৪৪টি মিল ও চাতাল চালু অবস্থায় রয়েছে। যা খাদ্য বিভাগের সাথে প্রতি বছর চাল সরবরাহর জন্য চুক্তি বদ্ধ হয়ে থাকেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS