
নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটি এবং জীবন ও বসতভিটা রক্ষা কমিটির উদ্যোগে দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতি পূরণের দাবিসহ কর্তৃপক্ষের স্বেচ্ছাচারীতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা করেছে গ্রামবাসীরা।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় পার্বতীপুরের হামিদপুর ইউনিয়নের চৌহাটি, বাঁশপুকুর, কাজীপাড়ার মধ্যবর্তী স্থানে ৫দফা দাবিতে এই প্রতিবাদ সভা করেন ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীরা।
দাবি গুলো হলো, ভূগর্ভে বিস্ফোরক ব্যবহারের কারণে সকল ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িঘরের ক্ষতি পূরণ দিতে হবে, ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার সকল রাস্তাঘাট মেরামত করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বেকার ছেলে ও মেয়েদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকুরী দিতে হবে, সি.এস.আর ফান্ড থেকে সুবিধা বঞ্চিত অসহায় মানুষসহ সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক সহযোগিতা করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত সকল এলাকায় সুপেয় পানির সমস্যা সমাধান করতে হবে।
এতে সমাজসেবক এনামুল হক মাষ্টার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের উপদেষ্টা এস.এম নুরুজ্জামান জামান। কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সহ-সভাপতি মাহামুদুন্নবী মিলন এর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সভাপতি মাহামুদুন্নবী সোহান, সাধারণ সম্পাদক সালমান মাহামুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ এবং জীবন ও বসতভিটা রক্ষা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক এসএম তানজিদ আলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক হাসেম আলী। ক্ষতিগ্রস্থ ৩টি গ্রামের প্রায় ৫শতাধিক নারী পুরুষ প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।
এসময় বক্তারা বলেন, খনি কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে স্বেচ্ছাচারীতা করছে। আমাদের ৫ দফা দাবি বাস্তবায়নে বার বার আন্দোলন সংগ্রাম করাসহ প্রধান উপদেষ্টা, খনি কর্তৃপক্ষ ও পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরকে অবগত করলেও আজ পর্যন্ত কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন নি। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে আর কতদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করব? এই এলাকার ভূ-গর্ভ থেকে কয়লা তোলার সময় ভূগর্ভে বোমা ব্লাষ্টের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ি ঘরে ফাটল ধরছে এবং দেবে যাচ্ছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কর্মকর্তা কর্মচারীরা লাভবান হলেও খনি এলাকা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, আমাদের এই ৫দফা দাবি মেনে না নিলে আগামীতে খনি ঘেরোওসহ কঠোর কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এই বিষয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন গ্রহণ করেননি।