নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ভূগর্ভ থেকে মাইন বিস্ফোরন করে কয়লা উত্তোলনের ফলে ১২টি গ্রামের ঘরবাড়িতে সৃষ্ট ফাটলের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকার বৈগ্রাম বাজারে কমিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি গোলাম মোস্তফা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মাইন বিস্ফরন করে কয়লাখনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে ঝাঁকুনিতে ১২টি গ্রামের ঘরবাড়িতে সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে আমরা সংগঠন থেকে লাগাতার ৬বার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছি। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সার্ভে করে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এরপরেও খনি কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। আমরা ছয় দফা চুক্তির কথা বলেছিলাম সেই ছয় দফা চুক্তি আজও বাস্তবায়ন হয়নি।
ছয় দফা চুক্তির মধ্যে রয়েছে, কর্তৃপক্ষের সমঝোতা চুক্তি মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে চাকরি দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ১২টি গ্রামের মানুষের বাড়িতে ফাটল ও কাঁপুনি হয়, তারা ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে, তাদের দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভূমিহীন প্রতিটি পরিবারকে মাইনিং সিটি অথবা উন্নত মানের বাসস্থান তৈরি করে দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে হবে এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা করতে হবে। মসজিদ মন্দির স্কুল কলেজ ও হাসপাতাল তৈরি করে দিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের যাদের জমি থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে তাদেরকে কয়লা উৎপাদনের বোনাস দিতে হবে। কিন্তু গত ৩০ বছরে কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ বৈগ্রাম সহ অন্যন্যা গ্রামগুলির যে ক্ষতি হয়েছে তারা কিছুই পায় নি। খনি কর্তৃপক্ষ এই এলাকার মানুষকে বোকা বানিয়েছে। তাই এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মন্ডলীর কাছে ন্যায় দাবি জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৬নভেম্বরে কয়লাখনির মুল ফটকে অবস্থান কর্মসূচী পালন করবো।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি ক্ষতিগ্রস্থদের দাবি আদায় বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল বেরুনী, সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম, আব্দুর রহমান বাচ্চু, গোলাম রব্বানী, মনিরুজজ্জামান, সাইফুল ইসলাম, আলী হোসেন, রবিউল ইসলাম মন্ডল, সাতার ইকবাল নয়ন, আবেদ আলী, সাইফুল ইসলাম সরকার, রেজাউল ইসলাম সহ সংগঠনের শতাধিক সদস্য। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানী লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সরকার এর সাথে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন কল গ্রহন করেননি।