ক্ষতিপূরণের দাবিতে বড়পুকুরিয়ার গ্রামবাসীদের মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান


নিজস্ব প্রতিবেদক
ক্ষতিপূরনের দাবিতে কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি সংলগ্ন বাঁশপুকুর মৌজার কাজিপাড়া অধিনস্থ ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীরা। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে ব্যানার ফেষ্টুন হাতে দাঁড়িয়ে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করেন তারা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর দাবি সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা।
কৃষি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সভাপতি মাহমুদুন নবী সোহান এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি মাহমুদুন নবী মিলন, সাধারণ সম্পাদক সালমান মাহমুদ তুহিন, সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হক, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফ, দপ্তর সম্পাদক রতন মাহমুদ, সদস্য আবু তাহের প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০১৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির সিসমিক টেস্ট এর কারণে ঘরবাড়ি ফেটে গেলে খনি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেন। ২০২৪ সালেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার লক্ষ্যে পুণরায় ৮টি মৌজা সার্ভে করা হয়। ইতিমধ্যে সার্ভেকৃত সেসব মৌজার চেক প্রদান করা হলেও অজ্ঞাত কারণে বাঁশপুকুর ও গোপালপাড়া মৌজার আংশিক চেক প্রদান করা হয়েছে। তালিকা ভূক্ত অবশিষ্ট ক্ষতিগ্রস্থদের এখন পর্যন্ত স্থগিত রেখেছেন খনি কর্তৃপক্ষ। বাঁশপুকুর কাজীপাড়া গ্রামের ফাটল বাড়ি গুলোর ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে না। অথচ এই এলাকার মানুষের অফুরন্ত সম্পদের ক্ষতি হলেও আমাদের দেয়া জমির নিচ থেকে যে পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে তা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে। আমাদের ন্যায্য দাবির প্রতি খনি কর্তৃপক্ষ কোন নজর দিচ্ছেন না। এই অঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।
পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা খাতুন বলেন, ইতিপূর্বে কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)’র সাথে বিভিন্ন গ্রামের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে আমার কথা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১২টি গ্রামের প্রতিনিধিদের সাথেও আমরা একটা বৈঠক করেছি, কথা বলেছি। তখন বাঁশপুকুর মৌজার বিষয়টি ওখানে ছিল না। আজ বিষয়টি নিয়ে বাঁশপুকুর গ্রামবাসীরা আমাকে বললেন এবং স্মারকলিপি প্রদান করলেন, আমি জানলাম। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত জেলা প্রশাসক স্যার এবং কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে কথা বলে যতুটুকু সম্ভব তাদের বিষয় গুলো দেখে সার্ভের মাধ্যমে তারা যদি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে, তারা যেন ক্ষতিপূরন পায় সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বলবো।
বিষয়টি নিয়ে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে (০১৩১৩ ৭০০৪৪০) একাধিকবার ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন কলটি গ্রহণ করেননি।
