চোরাই পথে তৈরি চা বিক্রি করলেই ব্যবস্থা


পঞ্চগড় প্রতিনিধি
দীর্ঘদিন ধরেই পঞ্চগড়ে ক্ষুদ্র চা চাষিদের উৎপাদিত চা পাতা নিয়ে কারখানা মালিক এবং চা চাষিদের মাঝে সংকট চলছে। কাঁচা চা পাতার ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত চা চাষি এবং বাগান মালিকরা। অন্যদিকে কারখানা মালিকদের অভিযোগ সিন্ডিকেটের কারণে তৈরী চা পাতার দাম পাচ্ছেন না তারা। এ নিয়ে গত চার বছর ধরে চাষিরা আন্দোলন করলেও কাটছে না সংকট। এই সংকট থেকে উত্তরণে এবার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসব বিষয়ে স্টকহোল্ডারদের সাথে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশ কয়েকটি ম্যরাথন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও সংকটের মূল কারণ খুঁজে বের করার জন্য চা কারখানা মালিক, ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র চা চাষি এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি বেশ কিছু দিন থেকে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে প্রতিবেদন দিয়েছে।
এবার সেই প্রতিবেদনের আলোকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রতিবেদনের আলোকে গৃহিত সিদ্ধান্তসমূহ অবহিত করার জন্য আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয় । এতে জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলীর সভাপতিত্বে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু সাইদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার দাস, চা বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকর্তা আমির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু, সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম, পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক সরকার হায়দার সহ বায়ার, বিডার, কারখানা মালিক সহ সংশ্লিস্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, বেশ কিছু দিন থেকে মাঠ থেকে সংকটের কারণ উদঘাটনের জন্য একটি টিমের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে। এর মাঝে ক্ষুদ্র চা চাষিদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রতি কেজি কাঁচা চা পাতার মুল্য ১৭ টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও চা কারখানাগুলো অবৈধভাবে চোরাই পথে চা বিক্রি করার কারণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন অনেকে। এছাড়াও এ কারণে চায়ের বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন অবস্থায় আমরা সকলকে সতর্ক করতে চাই। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে একটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
