তেঁতুলিয়ায় প্রথমবারের মত চাষ হচ্ছে বিদেশি ফল ‘প্যাশন’
আনারকলি ও ট্যাং নামেও পরিচিত সুস্বাদু এই ফল


পঞ্চগড় সংবাদদাতা
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় প্রথমবারের মতো চাষ হচ্ছে সুস্বাদু বিদেশি ফল প্যাশন। বাইরের দেশে ফলটির সবচেয়ে পরিচিত নাম প্যাশন। তবে অঞ্চলভেদে এর ভিন্ন নামও আছে। অনেকে বলে আনারকলি আবার অনেকে বলে ট্যাং। দক্ষিণ আফ্রিকায় এটি পরিচিত পারপেল গ্রানাডিলা নামে। ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম প্যাসিফ্লোরা ইডিউলাস। মিষ্টি স্বাদ ও উপকারিতার কারণে অনেক দেশেই ফলটি বেশ জনপ্রিয়।
জানা যায়, ১৩ বছর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই বিদেশি ফলের চাষ শুরু করেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সোহায়েল। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফয়জুন্নেসা হলের আঙিনায় ২০১১ সালের মাঝামাঝিতে প্যাশন ফলের দুটি চারা লাগান তিনি।
উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের লোহাকাচি গ্রামের সাবেক কৃষি কর্মকর্তা আলহাজ এমতাজ উদ্দীনের ছেলে মো. আবু রায়হান তাজ শালবাহান রোড বাজার সংলগ্ন শুকতারা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির জায়গায় পরীক্ষামূলকভাবে এই গাছের একটি চারা লাগিয়ে সফল হয়েছেন। এ বিষয়ে আবু রায়হান তাজ বলেন, চারা লাগানোর ছয় মাসের মধ্যে অল্প কিছু ফল ধরেছিল। তবে ৯ মাসের মধ্যে একটি গাছে প্রায় ৬০০ ফল ধরেছে। এই ফলটি বারোমাসি ফল। এই বিদেশি ফল সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়াসহ গ্রীষ্মকালে অনেক দেশে বাণিজ্যিকভাবে ফলটি চাষ হয়। বাংলাদেশে এখনও বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ শুরু হয়েছে কি না আমার জানা নেই। তবে এ দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী প্যাশন চাষ উপযোগী। তেঁতুলিয়ার মাটিতে আমি প্রথম চাষ করলাম। আমাকে কৃষি অফিস যদি এ গাছটির বিষয়ে ভালো কিছু পরামর্শ দেয় আমি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করব। এ ফলটি আমি জীবনে প্রথম কক্সবাজারে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে খেয়েছিলাম। অনেক সুস্বাদু ফল। তখন থেকে আমি এই গাছের চারা খোঁজা শুরু করি। অনেক কষ্টের পর খোঁজ পেয়ে যশোরের একটি নার্সারি থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার বিনিময়ে একটি চারা ক্রয় করি এবং কুরিয়ারের মাধ্যমে গ্রহণ করি। প্যাশন গাছে বছরে দুবার ফল ধরে। পূর্ণাঙ্গ ফল গোলাকার বা ডিম্বাকার। কাঁচা অবস্থায় এটি সবুজ হয়। তবে পরিণত অবস্থায় হলুদ বা গাঢ় বেগুনি রং ধারণ করে। ফলটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-এ, বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন-সি ও আয়রন রয়েছে। এ ফলের জুস পটাশিয়ামের একটি বড় উৎস। ১০০ গ্রাম ফল খেলে ৯৭ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে ক্যালসিয়াম রয়েছে ১২ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেশিয়াম ২৯ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ২৮ মিলিগ্রাম ও জিংক ০.১ মিলিগ্রাম। এ ফলটি উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমায়। হাঁপানি ও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্যও এই ফল বিশেষ উপকারী।
আবু রায়হান তাজ বলেন, ঢাকার কিছু দোকানে এ ফল কিনতে পাওয়া যায়। এক কেজির দাম পড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। ১ পিস আমি ৪০ টাকায় খেয়েছি। আমাদের দেশে এত টাকায় এ ফল কেনা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। বাসাবাড়িতে এক ফালি উঠোন থাকলে অন্যান্য দেশীয় ফলের সঙ্গে এই বিদেশি ফলের চাষ অসম্ভব কিছু নয় বলে মনে করেন আবু রায়হান তাজ। তার কথায়, ছায়াযুক্ত স্থানে একটি প্যাশন ফলের চারা রোপণ করে নিয়মিত যত্ন নিলেই ১০ মাসের মধ্যে ফল খাওয়া সম্ভব। বাড়তি তেমন কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন নেই।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তামান্না ফেরদৌস বলেন, ফলটি বিদেশি। কেউ এই ফল চাষে আগ্রহী হলে আমরা পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করব।
