দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান


নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিক্ষার মান, চিকিৎসাসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ প্রতিষ্ঠানকে একটি আদর্শ হোমিওপ্যাথিক শিক্ষা ও চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুরে দিনাজপুরের সুইহারীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির মূল ভবনের তৃতীয় তলায় আয়োজিত “ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন এন্ড সার্জারি (ডিএইচএমএস)” প্রথম বর্ষ ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন বরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে অভিজ্ঞ লেকচারার এনে নিয়মিত পাঠদান করানো হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের হাসপাতালটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, যা এই প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গর্বিত অধ্যায়। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
নবীনবরণ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন কলেজের শিক্ষকবৃন্দ। ডা. জাহিনা আক্তার পারভীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন হোমিও অনুরাগী আব্দুর রশিদ তোতা ও তসলিম উদ্দিন। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন সহকারী অধ্যাপক ডা. এ বি এম বেলালুজ্জামান, ডা. আবুল কাশেম ভূঁঞা এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকাররম হোসেন। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন এএসএম আক্তার শামীম ও মৌসুমী আক্তার।
নবীন বরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন অতিথি উদীচী দিনাজপুর জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার দে এবং নতুন কুঁড়ি প্রতিযোগিতায় সেরা পাঁচে স্থান অর্জনকারী কৃতি রায়। নৃত্য পরিচালক পল্লব সরকারের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করেন প্রিয় গুপ্ত, শুভশ্রী এবং কলেজ শিক্ষার্থী তানজিলা আক্তার মিম।
অনুষ্ঠান শেষে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম হাবিবুল হাসান আরো জানান, ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত দিনাজপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথি বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠান। পদাধিকার বলে এ প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জেলা প্রশাসক। ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করে কলেজটি এবং ওই বছর প্রতিষ্ঠানটির নয়জন শিক্ষার্থী বোর্ড স্ট্যান্ড করেন।

বোর্ড স্ট্যান্ড করা মেধাবী শিক্ষার্থীরা হলেন মোছা. নাসরিন আক্তার নিশি, অনন্যা তাসনিম, মো. সোহেল রানা, মোছা. কুলসুম আরা, মো. মশিউর রহমান, কৃষ্ণা রায়, শারমিন আক্তার মুন্নি, দেবাশীষ বসাক ও মোছা. তানজিলা আক্তার মিম।
তিনি আরও জানান, চার বছর মেয়াদী ডিএইচএমএস কোর্সে প্রতি বছর শতাধিক শিক্ষার্থী ভর্তি হয় এবং বর্তমানে কলেজটিতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। পুরো ক্যাম্পাস সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত। শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় গড়ে তুলতে রয়েছে ল্যাব সুবিধা, ১৫ থেকে ২০ জনের আবাসন সুবিধাসহ হোস্টেল এবং মোটরসাইকেল স্ট্যান্ড। এছাড়া নিজস্ব হাসপাতাল ভবনে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। এখানে নিয়মিত রোগী দেখেন ডা. কুদরত ই খোদা, ডা. এস এম শফিউর রহমান, ডা. নুরুল ইসলাম, ডা. মো. আব্দুল মালেক, ডা. জাহিনা আক্তার পারভীন ও ডা. আশিক কুমার রায়।
অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং নবীন শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণার সৃষ্টি করে।
