নবনির্বাচিত এমপি আব্দুল বারীকে মন্ত্রী করার দাবি জয়পুরহাটবাসীর


আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক সচিব মো. আব্দুল বারী-কে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার জোরালো দাবি উঠেছে। দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক, পেশাজীবী সংগঠন ও সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে এই উঠেছে। নির্বাচনে বিজয়ের পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, সৎ ও দক্ষ ভাবমূর্তি এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে তিনি মন্ত্রীত্ব পাওয়ার দাবিদার বলে মনে করছেন অনেকে।
দলীয় নেতারা বলছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় নীতি প্রণয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন তদারকি এবং মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের অভিজ্ঞতা তাকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা দিয়েছে। তাদের মতে, একজন অভিজ্ঞ আমলা থেকে রাজনীতিক হওয়ায় প্রশাসন ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চেয়ে নানা পোস্ট ও মন্তব্য করছেন সমর্থকরা। অনেকেই বলছেন, দল যদি যোগ্যতার মূল্যায়ন করে, তবে আব্দুল বারীকে অবশ্যই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, মন্ত্রীত্ব পেলে শিল্পকারখানা স্থাপন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে গতি আসবে। কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলে সেচব্যবস্থা উন্নয়ন, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সংরক্ষণাগার নির্মাণের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে প্রত্যাশা করছেন কৃষক প্রতিনিধিরা।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতেও উন্নয়নের প্রত্যাশা রয়েছে এলাকাবাসীর। নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে তিনি উদ্যোগী হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ মনে করছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে বেকারত্ব কমাতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এছাড়া সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, গ্রামীণ অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণেও তিনি কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন-এমন প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের ভাষ্য, একজন অভিজ্ঞ প্রশাসক হিসেবে তিনি সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের জটিলতা ভালোভাবেই বোঝেন, ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও গতি আসবে।
তবে মন্ত্রিসভা গঠন বা সম্প্রসারণ নিয়ে এখনো দলীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিত্ব সম্পূর্ণভাবে দলের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবুও জয়পুরহাট-২ আসনের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা-দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে মো. আব্দুল বারী-কে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর বিশ্বাস, তিনি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হলে শুধু জয়পুরহাট-২ নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন মাত্রা যোগ হবে এবং জনমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন।
