
নবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বারুনী মেলা মূলত সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বীদের একটি প্রাচীন উৎসব, যা ফুলপুর রাম নবমী বারুনী মেলা বা মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোগড়পাড়া বারুনী (বান্ন) মেলা হিসেবে পরিচিত। এই মেলাটি সাধারণত ইছামতি ও ভেলামতি নদীর সংযোগস্থলে বা নির্দিষ্ট জলাশয়ে নদী স্নান ও পুণ্য অর্জনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। প্রতিবছর নির্দিষ্ট তিথিতে মেলা বসে এবং এতে পুজা পার্বন ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আমেজ থাকে।
নবাবগঞ্জের বারুনী মেলায় পুণ্যার্থীরা ভোরবেলা নদী স্নান বা স্নানযাত্রার মাধ্যমে নিজেদের পাপ মোচনের প্রার্থনা করেন।এমেলা প্রতি বছরের চৈত্র মাসে উপজেলার ৮নং মাহমুদপুর ইউনিয়নের মোগরপাড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে বসে। মেলায় এলাকার সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ স্নান কার্য সম্পন্ন করে থাকেন।
মেলায় গিয়ে সরজমিনে দেখা যায়, মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, থালা-বাসন, কাঠের তৈরি আসবাবপত্র, শিতল পাটি, কামারের তৈরি দাঁ, কুড়াল বটিসহ শিশুদের হরেক রকমের খেলনা টমটম গাড়ি, রং বে রং এর বেলুন সহ বিভিন্ন সামগ্রী প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।
এছাড়াও মেলাতে এসেছে নাগরদোলা, ঘূর্ণিপাক, বিনোদনের জন্য সার্কাস, কচিকাচাদের জন্য বিনোদনের জিনিসপত্র, ঐতিহ্যবাহী চিনি ও গুড়ের সাঁস এবং মিষ্টি-জিলাপির দোকান। মেলাতে বসেছে হলুদ, রসুনের হাট।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বড় স্নান উৎসব ও মেলা অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্নান উৎসব ও মেলা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

মেলায় আসা দর্শনার্থী শ্রীমতী আদুরী চন্দ্র রবিদাস বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় এবার ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলাতে এসেছি। আমরা এখানে স্লান করে পূজা করি এবং ভগবানের কাছে পাপ মোচনের জন্য ভগবানের নিকট প্রার্থনা করি।
মেলায় আসা জাকির হোসেন বলেন, অনেক দিন থেকে দেখে আসতেছি এই মেলা। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী (হিন্দু) মানুষের পাশাপাশি মুসলমান ও অন্য ধর্মের বিভিন্ন বয়সের নারী ও পুরুষের ঢল নেমে যায়। আজ মেলায় এসে ভালো লাগছে ঘুরলাম বিভিন্ন কিছু দেখলাম এবং বাড়ির জন্য হলুদ ও রসুন কিনলাম আর ছোট বাচ্চাদের জন্য টমটমগাড়ি ও মাটির তৈরি কিছু জিনিসপত্র নিয়েছি।
সংশ্লিষ্ট থানা সুত্রে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী এই বারুনী বা বান্নী মেলা নিরবচ্ছিন্ন করতে থানা পুলিশের নজরদারি রয়েছে। এ ছাড়া মেলা কমিটির পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবকও রয়েছে। যাতে মেলায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।