
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
রোপা আমন ফসল নির্বিঘে উৎপাদনের লক্ষ্যে ক্ষতিকর বালাই পর্যবেক্ষণ ও দমনে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে উপজেলায় ৯টি ইউনিয়নে ‘আলোর ফাঁদ’ ব্যবহার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
আলোক ফাঁদ ধানের পোকা দমনে একটি পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি। আলোক ফাঁদ তৈরিতে বাঁশের খুঁটি, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও সৌরবিদ্যুতের সোলার প্যানেল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ধানখেত বাঁশের ৩টি খুঁটি সাহায্যে মাটি থেকে ২-৩ ফুট ওপরে একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে এর নিচে একটি পাত্রে ডিটারজেন্ট পাউডার অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানি রেখে ফাঁদটি তৈরি করা হয়। সন্ধ্যার পরে আলোর ফাঁদের আলোয় আকৃষ্ট হয়ে ধানখেতের বিভিন্ন পোকামাকড় এসে পাত্রের পানিতে পড়ে। অতি অল্প খরচে তৈরি এই আলোক ফাঁদ এটি ব্যবহার করে বেশ উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের খামারদেবীপুর মাঠে এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস কৃষকদের মাঝে আলোক ফাঁদের কার্যকারিতা ও প্রয়োগ পদ্ধতি তুলে ধরেন।
এসময় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কেরামত আলী, উপ-সহকারী তাপস কুমার সরকার, উপ-সহকারী মুকুল বাবু ,সহ জনপ্রতিনিধি, কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
কৃষক সুজাউদ দোউলা বলেন, আমি ৫বিঘা জমিতে ধান চাষ করছি । গত বছর পোকা নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম ভালো ভাবে ফসল করতে পারিনি। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শে আলোক ফাঁদ করে অনেক উপকৃত হচ্ছি। এখন সহজেই পোকা নির্ধারণ করে, ওষুধ দিতে পারছি।এতে করে ফসল ভালো হবে আশা করি।
কৃষক মমিনুল ইসলাম বলেন আমি ৩ বিঘ জমিতে ধান চাষ করতেছি, ধান ভালো হয়েছে। তবে খোকা নিয়ে খুব টেনশনে আছি, ওষুধ দিয়েও অনেক সময় কাজ হয় না। তবে এবার কৃষি অফিসের সহযোগিতায় আলোক ফাঁদ করে উপকার পাওয়া যাচ্ছে। কারণ সঠিক ঔষধ ব্যবহার করতে পারছি পোকা নির্ধারণ জন্য।
কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন- আলোক ফাঁদের মাধ্যমে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। এর ফলে সময় মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে এবং অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এ কার্যক্রম পরিবেশ বান্ধব উপায়ে বালাই দমন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদন খরচ হ্রাসে সহায়তা করবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের স্থানীয় কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে আলোক ফাঁদ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং কৃষকদেরও এতে সম্পৃক্ত করছেন।
উপজেলায় গত বছর রোপা আমন চাষ হয়েছিল ২১ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৭২৯ হেক্টরে।