শুক্রবার, ১০ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নবাবগঞ্জে বরেন্দ্র গভীর নলকূপে অনিয়ম, ডিজেল মেশিনে ফিরছে চাষিরা

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলায় মশিপুর গ্রামে বরেন্দ্র গভীর নলকূপে পানির জন্য জিম্মি কৃষক। সেচ ব্যবস্থায় অনিয়ম, অতিরিক্ত খরচ ও পানি সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অভিযোগ উঠেছে, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে বেশি টাকা আদায় ও সময়মতো পানি না দেওয়ার কারণে কৃষকরা বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত সেলো মেশিন দিয়ে চাষাবাদ করছে।
এদিকে সঠিকভাবে পানি পরিচালনা করার জন্য, প্রতি বছর পাম্প অপারেটর নিয়োগের জন্য পরীক্ষা নেওয়া হলেও তা মূলত লোক দেখানো। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পূর্বের অপারেটরদের পুনরায় বহাল রাখা হয়েছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে আবেদনকারীদের ২০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফটের করতে হয়। আবেদন করা হলেও শেষ পর্যন্ত নতুন প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয় না।
এ বিষয়ে বিএমডিএ’র সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পূর্বের অপারেটরদের কার্যক্রম সন্তোষজনক হলে নবায়নের মাধ্যমে তাদের বহাল রাখা হয়। আর এই দীর্ঘদিন বহাল রাখার কারণেই জিম্মি হয়ে আছেন কৃষকরা
অফিস সূত্রে জানা যায়- নবাবগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে মোট ১১৬টি গভীর নলকূপ রয়েছে । এর মধ্যে সোলারচালিত ৩টি ও বিদ্যুৎচালিত সোলার ১টি । ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনে সেচের পানির ক্ষেত্রে ঘণ্টাভিত্তিক নির্ধারন করা আছে, প্রতি ঘণ্টা ১৩০ টাকা।
স্থানীয় কৃষক তোজাম্মেল হক বলেন, আমার কাছ থেকে বিঘাপ্রতি ২ হাজার ৮০০ টাকা চাওয়া হয়। টাকা কম দিতে চাইলে জমিতে পানি দেওয়া হয় না। সেচ খরচ বেশি জন্য জমিতে ধান লাগাতে পারিনি। আবার পাশের আরেকটি গভীর নলকূপে ধান লাগাইছি, ওখানে বিঘা প্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা করে।
মশিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় কৃষক মফিদুল ইসলাম বলেন, আমার প্রায় ৮-১০ বিঘা জমি আছে, বরেন্দ্র গভীর নলকূপের সাথে আমার জমি । কষ্ট লাগে আমি পানি নিতে পারি না। সময় মতো পানি পাওয়া যায় না। আমরা কৃষকরা জিম্মি হয়ে পড়েছি এই বরেন্দ্রতে । বাধ্য হয়ে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে চাষাবাদ করছি। পানির সমস্যার কারনে, ধানের পরিবর্তে প্রায় বেশিরভাগ জমিতেই ভুট্টার চাষ করছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায়বিচার চাই।
স্থায়ী কৃষক শাহিন বলেন, বরেন্দ্রর পানি দিয়ে কৃষকের উন্নয়ন থাকলেও,এখানে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া নাই। অনিয়ম, দুর্নীতি,ঠিকভাবে পানি দেয় না, যার কারণে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিনের মাধ্যমে, কৃষক ভুট্টা, পাট, সেচকম লাগে এমন ফসল চাষ করছি। বিষয়টি নিয়ে অফিসে অভিযোগ করে প্রতিবাদ করলেও, বরেন্দ্র অফিসের কর্মকর্তা আমলে নেয় নাই।
স্থানীয় কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, আমি বরেন্দ্রতে চাষ করে কোন লাভ করতে পারিনি, সেচ খরচ বেশি। অতিরিক্ত সেচ খরচের কারণে আমি বাধ্য হয়ে, এক বিঘা জমিতে ডিজেল চালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে চাষ করছি।
মশিপুর পাম্প অপারেটর রেজাউল ইসলাম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কিছু মানুষ অভিযোগ করছেন। তিনি আরও জানান, ২০০৬ সালে নিজ জমি দিয়ে গভীর নলকূপ স্থাপনে সহযোগিতা করেন ও ২০০৭ সাল থেকে তিনি পাম্প অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সেচ লাইন, যন্ত্রাংশ মেরামতের টাকা আত্মসাৎ ও অপারেটর নিয়োগে অনিয়মে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম অস্বীকার করে বলেন, টাকা আত্মসাৎ সুযোগ নাই, যা আসে তাই দেওয়া হয়। আর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের হয়নি। বিঘা প্রতি ২ হাজার ৭০০ টাকা নেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি আর বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুয়োগ নাই তবে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে , চলতি বোরো মৌসুমে নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৭ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে । আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভবান হবেন কৃষকরা বলে মনে করেন ।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS