নবাবগঞ্জে বিএডিসির সেচে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, বিপাকে বোরো চাষিরা


হিলি প্রতিনিধি
নবাবগঞ্জে বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের আওতায় পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সেচ খরচ অস্বাভাবিক বাড়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে বিপাকে পড়েছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হবে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, সেচের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
শালটিমুরাদপুর মাঠের চাষি মজিবর রহমান বলেন, আমি ২ বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। এবার সেচ খরচ নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। অন্যান্য এলাকায় সেচ খরচ বিঘা প্রতি ১৬-১৭শ টাকা। কিন্তু এই এলাকাতে ২৮০০ টাকা গুণতে হচ্ছে, যা সরকারি নির্ধারিত খরচের চেয়ে অনেক বেশি।
একই এলাকার বাসিন্দা মো. আসমান আলী বলেন, ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা দিয়েও আমরা স্বস্তি পাচ্ছি না। এমন খরচ আগে কখনো হয়নি। পানি নিতে ড্রেনের কাজও আমাদের নিজেদেরকেই করতে হয়।
কৃষক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, পানির দামের এই পার্থক্যের কারণে চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিএডিসির সেচ প্রকল্পের ডিপ মালিক রুহুল আমিন বলেন, বিদ্যুৎ বিল ও মিটার স্থাপনের খরচের কারণে কৃষকদের কাছ থেকে কিছু অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফলে গত মৌসুমের তুলনায় এবার সেচ খরচ কিছুটা বেশি পড়ছে।
নবাবগঞ্জ বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী শ্রী জয় কুমার সরকার বলেন, সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজারশিপ বাতিল করা হবে।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। দ্রুত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
