
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে মাঠে মাঠে আমগাছগুলো ছেয়ে গেছে মুকুলে। কোনো কোনো গাছে আমের গুটিও দেখা যাচ্ছে । পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগান মালিকরা । আবার কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নানান পদক্ষেপ নিচ্ছেন ভালো দাম ও ফলন পাওয়ার আশায়।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকালে আমের উৎপাদন ভালো হবে বলে আশা করছেন বাগান মালিকরা। নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ৯টি ইউনিয়নে আম চাষ হচ্ছে। হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, আম্রপালি, বারি-৪, গৌরমতী, গোপালভোগ, কাটিমন সহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ করছেন কৃষকরা ।
এদিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে যেমন উৎপাদন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করতে পারলে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হবেন এমনটাই বলছেন কৃষি অধিদপ্তর ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়-গত বছরের ৯০২হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে, এবার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৯০৮হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি।

আম বাগান মালিক কল্লোল বলেন- আমি প্রায় ৪৫ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ করছি। ভালো ফলনের আশাও করছি। সব আম বাগানে সম্ভাবনাময় মুকুল আসছে। নিরাপদ, মানসম্মত ফল উৎপাদন পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছি। ইচ্ছা আছে বিদেশে রপ্তানি করার, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব সময় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিচ্ছে । আমার প্রায় ৭ থেকে ৮লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। আশা করছি আবহাওয়া যদি ভাল থাকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা আয় হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন- নবাবগঞ্জ উপজেলার মাটি আম চাষে উপযোগী । এখানে সব ধরনের আমের ফলন ভালো হয়। আমরা কৃষকদের সব সময় সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। প্রাকৃতিক কোনো প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি না হলে এই উপজেলায় এবার ১৩ হাজার ৯২০ মেট্রিক টন বেশি আম উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।