
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নারী প্রশিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পঞ্চগড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। উপপরিচালকের প্রত্যাহার ও ঘটনার বিচার দাবিতে আজ সোমবার বেলা ১১টায় পঞ্চগড় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
নির্যাতিত নারী সমাজ ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে জেলার পাঁচ উপজেলার অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রশিক্ষণার্থী এবং ভুক্তভোগী প্রশিক্ষক লুনা বেগম অংশ নেন। কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী লুনা বেগম, হিসাবরক্ষক সিলভিয়া নাসরিন, উপজেলা কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষণার্থীরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কর্মসূচির দিন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান প্রশিক্ষক লুনা বেগমকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করেন। তাঁদের দাবি, উপপরিচালকের এমন আচরণ শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, এটি সরকারি চাকরিবিধিরও পরিপন্থী। দ্রুত তাঁকে প্রত্যাহার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন বক্তারা। দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতির কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে একই ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন প্রশিক্ষক লুনা বেগম। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় একশ প্রশিক্ষণার্থী ও সহকর্মীদের নিয়ে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে নির্দেশনা দেওয়ার সময় উপপরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান হঠাৎ তাঁর ওপর চড়াও হন এবং চুলের মুঠি ধরে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
লুনা বেগম বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন ঘটনায় তিনি গভীরভাবে অপমানিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। পরে অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি বিষয়টি উপস্থিত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও প্রশিক্ষণার্থীদের সামনে তুলে ধরেন। ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের বিষয়টি জানানো হলে উপপরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান সাংবাদিক, পুলিশ ও এনএসআই কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে উত্তেজিত আচরণ করেন এবং নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
লুনা বেগমের দাবি, উপপরিচালকের এমন আচরণ নতুন নয়। তিনি এর আগেও কার্যালয়ের বিভিন্ন কর্মচারীর সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন। এতে অফিসের কর্মপরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “নো কমেন্ট।”