
নীলফামারী প্রতিনিধি
পল্লীশ্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিশেষ করে কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়ন সহযোগীতা ও বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করনের মধ্যদিয়ে যে অভিজ্ঞতা তাতে দেখা যাচ্ছে যে, পৃথিবীর যে সব দেশে শিশু বিয়ের হার সবচেয়ে বেশি, বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। শিশু বিয়ে যে কোন কিশোরীর জীবনের এমন একটি ঘটনা, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ঐ বিবাহিত কিশোরীর ব্যক্তিগত জীবনের সকল ক্ষেত্রে। আর এর সুদুর প্রসারী প্রভাব পড়ে বিবাহিত কিশোরীর নিজের ও সন্তানের স্বাস্থ্যের উপর, পরিবার, সমাজ এবং সর্বোপরি একটি রাষ্ট্রের শিক্ষা-স্বাস্থ্য-অর্থনীতির মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খাত গুলোতে। বিবাহিত কন্যা শিশুদের কখনোই শিশু হিসেবে স্বীকৃতি বা বিবেচনা করা হয় না। বিবাহিত হওয়ার পর তারা ঘরে আটকে যায় ও মেয়ে শিশু হিসেবে প্রতিনিয়ত তার অধিকার লঙ্ঘন করা হয় এবং বিষয়টি বরাবরই অদৃশ্য থেকে যায়। এরই দৃষ্টিকোন থেকে নীলফামারী জেলা সদরের পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়ন, ডোমার পৌরসভাসহ ৫টি ইউনিয়ন ও ডিমলা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে প্রচারণা চালানো হচ্ছে বাল্যবিবাহ রোধে নিরাপদ ক্যাম্পেইন (নিজেকে রাখিবো পরম দায়িত্বে)।
সরেজমিনে সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পল্লীশ্রী’র একজন মাঠকর্মী ও স্থানীয় অনেক কিশোর-কিশোরী মিলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাল্যবিবাহ রোধে প্রচারণা চালাচ্ছে। সে সময়ে দেখা গেছে তারা বিভিন্ন বয়সী শিক্ষার্থীদের বিবাহের বয়স সম্পর্কে সচেতন করছে। দেখা গেছে অনেকের নাম ও বয়সের তথ্য তাদের স্থানীয় নারী ক্লাবে সংরক্ষণ করছে। এছাড়াও নারীর ক্ষমতায়ন, প্রত্যেকের জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলকের বিষয়েও প্রচারণা চালাচ্ছে সংগঠনটি।
বানিয়াপাড়া কিশোরী ক্লাবের সদস্য রাইসা আক্তার বলেন, পল্লীশ্রী’র সাথে যুক্ত হয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। কারণ এখানে নারীর ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক বিষয়ে সুন্দরভাবে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও সরকারী নিয়ম অনুযায়ী মেয়ের ১৮বছর ও ছেলেদের ২১বছর বয়সের আগে বিয়ে নয়। বাল্যবিবাহের নানা কু’ফল, এ সম্পর্কিত কু-সংস্কার, রাস্ট্র নির্ধারিত বিয়ের সঠিক বয়স, রাস্ট্রীয় আইন এবং টোল ফ্রি নম্বর ১০৯, ৯৯৯, ৩৩৩, ১০৯৮ নম্বর সর্ম্পকে অবগত, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা, গর্ভবর্তী মায়ের পরিচর্যা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ, কর্মসংস্থান সৃস্টি সম্পর্কে বিশেষ আলোচনা করা হয়। তাছাড়া প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে ছেলে মেয়েদের তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং সবাইকে সচেতন করা হয়।
তানজিনা বেগম সিবিও সভানেত্রী বলেন, চড়াইখোলা ইউনিয়নের নারীরা আগে অনেক অবহেলিত ছিলো। পল্লীশ্রী যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন এলাকায় নারী ক্লাব, সিবিও ও আর্দশ গ্রাম গঠন করা হয়েছে। এখানে নারীদের ক্ষমতায়ন বিষয়ক আলোচনা করা হয়। এছাড়াও এই ইউনিয়নে আগে বাল্যবিবাহের প্রবণতা অনেক ছিলো। নিরাপদ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এখন প্রতিটি অভিভাবক অনেক সচেতন হয়েছে এবং কিশোরীদের স্কুলে ঝড়ে পড়ার হার কমেছে। কমিউনিটির কিশোর-কিশোরীরা এখন উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। নীলফামারী মশিউর রহমান ডিগ্রী কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সাওমি আক্তারের মা মোসলেমা বেগম বলেন, মেয়ের জন্য অনেক বিয়ের প্রস্তাব আসছে। মেয়ের সাফ কথা, নিজের পায়ে দাড়ানোর পর বিয়ে করবে। পল্লীশ্রী সূত্রে জানা গেছে, পল্লীশ্রী একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে ১৯৮৭ সালের ০৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। দিনাজপুর ও নীলফামারী জেলায় ১১৩টি নারী ক্লাবের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিরাপদ ক্যাম্পেইন (নিজেকে রাখিবো পরম দায়িত্বে) অব্যাহত রয়েছে।