রবিবার, ১লা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পঞ্চগড়ের হাটুয়ার ঘাটে ব্রীজ না থাকায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

হায়দার আলী, পঞ্চগড়
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাষা ইউনিয়নের সুমপাড়া-খোপড়াবান্দী সড়কের হাটুয়ার ঘাটে কুরুম নদীর উপর ব্রীজ চায় এলাকাবাসী। এই ঘাটে ব্রীজ না হওয়ায় দীর্ঘ দিন থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তারা। একটি ব্রীজ হলে ২০ থেকে ২৫ টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে।
জানা যায়, এই ঘাট থেকে হাড়িভাষা বাজারের দূরত্ব মাত্র ৩ কিলোমিটার। কিন্তু এখানে ব্রীজ না থাকায় প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে হাড়িভাষা বাজারে যেতে হয়। এই ঘাটে ব্রীজ হলে সময় ও অর্থের অপচয় কমবে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, নদীর পূর্ব পাশে গ্রাম সুমপাড়া, লক্ষপতিপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, ঢোলোপুকুর আশ্রায়ন, সিংগিয়াপাড়া, সরদারপাড়া, বড়বাড়ী। নদীর পশ্চিম পাশে রয়েছে নদী সংলগ্ন গ্রাম খোপড়াবান্দী, বালিয়াডাংগী, বীরপাড়া, তেলিপাড়া, প্রধানপাড়া, দেবীযাদু, দামুপাড়া, খালপাড়া গ্রাম। নানা প্রয়োজনে নদীর দুই পাশের বাসিন্দাদের নদী পারাপার হতে হয়।
পার্শ্ববর্তী লক্ষপতি পাড়া গ্রামের বৃদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধা রহিম উদ্দীন (৯৮) বলেন, এই ঘাট দিয়ে একসময় গরু মহিষের গাড়ি পাড়াপাড় হতো। পরে আবার বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা করা হয়েছিল। এই ঘাটে ব্রীজ হলে ২০ থেকে ২৫ টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।
এক‌ই গ্রামের বিদ্যুৎ চন্দ্র রায় (৪৫) বলেন, হাড়িভাষা ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় দুর্গা মন্দির নদীর পূর্ব পাশে রয়েছে। নদীর পশ্চিম পাশের বালিয়াডাংগী গ্রাম থেকেও আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা করতে আসতো। কিন্তু এই নদীই তাদের বিচ্ছিন্ন করেছে। আপনার মাধ্যমে বর্তমান সরকারের কাছে আকুল আবেদন অতি তাড়াতাড়ি যেন আমাদেরকে এখানে একটা ব্রীজ উপহার দেন।
নদীর পূর্ব পাশের নদী সংলগ্ন সুমপাড়া গ্রামের বাবুল হোসেন (৪৯) বলেন, এই ঘাটে দীর্ঘ দিনে ব্রীজ না হওয়ায় নদীর পূর্ব পাশের রাস্তাটা কেটে বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এই ঘাট দিয়ে হাড়িভাষা বাজার মাত্র ৩ কিলোমিটার। এখানে ব্রীজ না হওয়ায় ঢাঙ্গি দিয়ে ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় বাজার হাড়িভাষা যেতে ৭ কিলোমিটার ঘুরতে হয়।
নদীর পশ্চিম পাশের খোপরাবান্দী গ্রামের হাজেরা খাতুন (৪৫) বলেন, নদীর পূর্বপাশে আমাদের কৃষি জমি আছে। সেখানে ধান ও ভুট্টা আবাদ করি। সেগুলো বাড়িতে আনতে প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হয়।
একই গ্রামের বানাচা (৫০) বলেন, নদীর পূর্ব পাশে ছোট বাজার রহিম মার্কেট। সেখানে বাজার করতে গেছিলাম। । এখানে ব্রীজ হলে সহজে বাজারে যেতে পারব।
নদীর ঘাটে দেখা হয় নদীর পশ্চিম পাশের দামুপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সফিজ উদ্দিন (৬০) এর সাথে। তিনি বলেন, নদীর পূর্বপাশে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ৩ বছরের নাতি ও ৬ বছরের ভাতিজিকে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে গেছি। এখন সেখান থেকে বাড়িতে যাচ্ছি। বর্তমানে নদীতে হাঁটু সমান পানি ও কাদা পার হয়ে মেয়ের বাড়ি যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়। এছাড়া বর্ষাকালে অনেক পথ ঘুরে মেয়ের বাড়িতে যেতে হয়।
হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিন বলেন, সুমপাড়া- খোপড়াবান্দী সড়কের হাটুয়ার ঘাটে কুরুম নদীর উপর একটি ব্রীজ খুবই প্রয়োজন। এছাড়া এপাশ দিয়ে হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদ, হাড়িভাষা ইউনিয়ন ভূমি অফিস, ইউনিয়ন মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, ব্যাংক ও হাড়িভাষা বাজার সহজে ও অল্প সময়ে যাওয়া যায়। এই ঘাটে ব্রীজ হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষ সহজে হাড়িভাষা বাজারে যাতায়াত করতে পারবে। পাশাপাশি এলাকার আর্থ সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপসহকারী প্রকৌশলী কৃষ্ণ চন্দ্র রায় বলেন, আমি আপনার মাধ্যমে হাড়িভাষা ইউনিয়নের সুমপাড়া-খোপড়াবান্দী কুরুম নদীর উপর হাটুয়ারঘাট সম্পর্কে অবহিত হলাম। এলজিইডি পঞ্চগড় সদর কর্তৃক সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করবো।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS