বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পীরগঞ্জে আগাম জাতের ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষক

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জে আগাম জাতের আমনধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। ইতোমধ্যেই আগাম জাতের ধান কর্তনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। ফলনও আশানুরুপ হয়েছে। মাঠ জুড়ে আগাম জাতের পাকা ধান বাতাসে যেমন দোল খাচ্ছে পাশাপাশি কৃষকদের মাঝেও তৈরী করেছে উচ্ছ্বাস। ধান ও ধানের খড় (স্থানীয় ভাষায় কাড়ি) দুটোরই ভাল দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। আগামীতে আগাম জাতের আমন ধানের চাষে আরো বেশী আগ্রহী হবেন চাষীরা।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষিবিভাগ জানায়, চলতি রোপা আমন মৌসুমে পীরগঞ্জে ২৫ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে । এরমধ্যে ৬ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আমন ধানের চাষ হয়েছে। ব্রি-৭১, বি-৭৫, ব্রি-৮৭, বিনা-১৭, বিনা-৭ এবং হাইব্রিডসহ ২০ জাতের ধান।
পীরগঞ্জ উপজেলার ধান চাষী জয়পুর গ্রামের মেহেদুল মিয়া, তসের মিয়া, মিঠিপুর গ্রামের আমজাদ হোসেন, হোসেনপুর গ্রামের তাহের মিয়ার মতে তারা প্রতিবছর আগামজাতের ধানের চাষকরে থাকেন। বৃষ্টির পানির অপেক্ষায় না থেকে শুরুতেই সেচ পাম্পের পানি সেচ দিয়ে এই ধানের চাষ করেন। এতে আগাম ধান উৎপাদনের কারণে ধান কর্তনের সময় শ্রমিকের সংকট হয়না। গো-খাদ্য হিসেবে খড় ব্যবসায়ীরাও জমি থেকে ধান কাটামাড়াই করে ঘরে উঠিয়ে দেয়। ফলে খরচ অনেক কম হয়। এছাড়া নতুন ধানের চালের বাজারেও অনেক চাহিদা রয়েছে। ধান কর্তনের পর উক্ত জমিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে তেল জাতীয় ফসলের চাষও করা সম্ভব। এ পরিস্থিতিতে বর্তমানে কৃষকদের মাঝে এ ধান চাষের ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে। আগাম আমন ধান চাষী ফতেপুরের মোস্তফা জামান জানান, আগাম আমন চাষ করে তুলনামুলকভাবে ধানের চেয়ে কাড়ির (খড়) দাম বেশী হওয়ায় এ ধান চাষ করে অধিক লাভ হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন মিয়া বলেন, আগাম ধান চাষের শুরু থেকেই অনুকুল আবহাওয়ার কারণে এ ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ কম হয়েছে। এছাড়া কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের মাঝে বীজ সার প্রণোদনাসহ বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাষীদেরকে সহায়তা করা হয়েছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This