
পীরগঞ্জ(রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মাদারগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে রশি টানাটানি চলছে। এছাড়াও দুই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আবেদনে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠে এসেছে। কলেজ পরিচালনায় নতুন কমিটির মেয়াদ ২ মাস পূর্ণ না হতেই নতুন পরিচালনা কমিটি দিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ ১৯ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রায়হান কবির প্রধানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করায় নতুন করে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কলেজকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জানা গেছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে গত ১৪ আগষ্ট কলেজের প্রভাষক স্থানীয় বিএনপি নেতা রায়হান কবির প্রধান দলীয় প্রভাব বিস্তার করে বলপূর্বক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহন করে। অপরদিকে উপাধ্যক্ষ বহুলুল মিয়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এ্যাডহক কমিটি গঠনে আবেদন করেন। উপাধ্যক্ষের আবেদনে প্রেক্ষিতে ১ অক্টোবর স্থানীয় জামায়াত নেতা মহিপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলামকে সভাপতি করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এরপর নতুন কমিটি ২ অক্টোবর প্রথম সভায় উপাধ্যক্ষ বহুলুল মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন। এদিকে ১৯ অক্টোবর প্রভাষক রায়হান কবির প্রধানের আবেদেনের প্রেক্ষিতে ২০ অক্টোবর পূর্বের কমিটি স্থগিত করে ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। ২১ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত কলেজ পরিদর্শক মাসুদ রানা ও আইন শাখার নজরুল ইসলাম কলেজে তদন্তে আসেন। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই আকস্মিকভাবে ১৪ নভেম্বর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মাহমুদ উন নবী পলাশকে সভাপতি করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট এ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এই কমিটি আবারো রায়হান কবির কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়। সর্বশেষ ১৯ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার স্বাক্ষরিত চিঠিতে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী উপাধ্যক্ষ অথবা জ্যেষ্ঠতম ৫ জন শিক্ষকদের মধ্য থেকে ১ জনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য এ্যাডহক কমিটিকে অনুরোধ করা হয়। প্রভাষক রায়হান কবির প্রধান বলেন, কমিটি আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দিয়েছে। সেহেতু ওই চিঠির কোন কার্যকারিতা নেই।
উপাধ্যক্ষ বহুলুল মিয়া জানান, বিধি অনুযায়ী আমার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করার কথা। জুনিয়র একজনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া অবৈধ। কিন্তু তা না করে পুরো বিষয়টি কৌশলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাহমুদ উন নবী পলাশ বলেন, কলেজ যাতে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সেজন্য রায়হান কবির কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।