
পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জে প্রাণি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের ‘‘সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক ও জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সমন্বিত প্রাণি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের’’ আওতায় উপজেলা প্রাণি সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে ওই ছাগল ও উপকরণ বিতরণ করা হয়।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ফজলুল কবির জানান, উক্ত প্রকল্পের অধিনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সুফল ভোগীর ১৭৯ পরিবারের মাঝে ২টি করে মোট ৩৫৮ টি বাড়ন্ত ছাগী বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
আজ বুধবার দুপুরে ছাগল বিতরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার পপি খাতুন। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কাওছার হোসেন, ভ্যাটেরিনারি সার্জন ডাঃ মিজানুর রহমানসহ অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তা, সুফল ভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৫ কি.মি. দূর থেকে পীরগঞ্জ প্রাণি সম্পদ দপ্তরে ছাগল নিতে আসা শানেরহাট ইউনিয়নের বড় পাহাড়পুর গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য ফুলচান মিনজীর স্ত্রী বিজলী এক্কা বলেন, হামার বাড়ির ভিটা ছাড়া আর কোন জমি নাই। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই অন্যের ক্ষেত-খামারে মজুরী করে কোন রকমে দিনচালাই। বিনামুল্যে অফিস থেকে ২টি বকরী (ছাগী) পাইছি। ইচ্ছা আছে এই বকরী (ছাগী) পালি-পুষি ছোট খামার বানামো। খামার থাকি আয় করে পরিবারের অভাব দুর করমো। একই কথা বলেন, সুফলভোগী চৈত্রকোল ইউপির বাসুদেবপুর গ্রামের সবুজ হারুন তিরকির স্ত্রী তৃষ্ণা মিনজি। উত্তর দুর্গাপুর গ্রামের আলবাট লাকড়ার স্ত্রী লিনডুয়া- এই ছাগল পালনের মাধ্যমে ছাগলের খামার গড়ে তুলে নিজের পরিবারকে আর্থিক স্বচ্ছলতায় দাড় করানোর পরিকল্পনা আছে তার। চতরা ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের ভূমিহীন দিনমজুর রতন পাহাড়ীর স্ত্রী শিল্পী পাহাড়ীও স্বপ্ন দেখছেন এই ছাগল দিয়েই পরিবারে আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে সমাজে মাথা উচু করে দাঁড়াবার।