সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পীরগঞ্জে মুকুলে ছেয়ে গেছে আমগাছ, বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র আম গাছগুলো মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। সবুজ পাতা আর হলুদ রঙের মুকুলে ভরে গেছে ডালপালা। বাতাসে ভাসছে মৌ মৌ ঘ্রাণ। মধুমাসের আগমনী বার্তা নিয়ে কিচির-মিচির শব্দে ছোট ছোট পাখি আর গুনগুন শব্দে মৌমাছির দল মধু আহরণে বাগানগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে শুধুই মুকুল।
মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুকুলে ভরে গেছে আমগাছগুলো। তবে ছোট আকারের চেয়ে বড় ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল দেখা যাচ্ছে। পীরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ২৩৬ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে।এছাড়াও গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে ২/৪টি বা তারও বেশী আমগাছ রয়েছে। এসব আমবাগানে আম্রপালী, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি ও হাঁড়িভাঙা জাতের আম উল্লেখযোগ্য। এ বছর আগেভাগে আমগাছে মুকুল আসায় আমচাষিরা ভীষন খুশি। তাই ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ গাছ পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চৈত্রকোল গ্রামের আমবাগান মালিক মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রায় ৭/৮ বছর পূর্বে ২ একর জমিতে আমের চারাগাছ লাগিয়েছিলাম। প্রতিটি গাছেই আম ধরে। কিন্ত বিগত বছরের তুলনায় এবার গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল ধরেছে। বোয়ালমারী গ্রামের আমচাষী মিজানুর রহমান জানান, আবহাওয়া সহায়ক হলে পীরগঞ্জে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে। তাই আম বিক্রি করে শুধু স্থানীয় অর্থনীতিই নয়, জাতীয় অর্থনীতিতেও শক্তিশালী ভূমিকা পালন করবে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহম্মেদ আম চাষীদের সতর্ক করে বলেন, আমের মুকুল যত্নসহকারে সংরক্ষণ করতে হবে। কারণ আবহাওয়া হঠাৎ পরিবর্তিত হলে ফুল ঝরে যেতে পারে। এছাড়া রোগ-ব্যাধি ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করাও জরুরি। তিনি আরে বলেন, নিয়মিত পরিচর্যা, গাছের গোড়ায় বাঁধ দিয়ে পানি সেচ ও যথা সময়ে ছত্রাকনাশক প্রয়োগের মাধ্যমে আমের ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব। চলতি মৌসুমে পীরগঞ্জে ৩ হাজার ২২৫ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS