প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২৬, ২:২৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ নভেম্বর ১৮, ২০২৪, ২:২৫ অপরাহ্ণ
পীরগঞ্জে লাম্পি স্কিন রোগে কৃষকের গোয়াল ফাঁকা
![]()
পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জে কৃষকের গোয়ালঘর ফাঁকা করছে লাম্পি স্কিন রোগ। এই অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকদের সংসারের একমাত্র সম্বল গরু। এ অঞ্চলের কৃষক সারা বছর চাষাবাদ করে। চাষাবাদে বেশিরভাগ সময় লোকসান হলেও বছর শেষে লোকসানের বোঝা হালকা করে তাদের এই গরু। সাম্প্রতিক সময়ে নতুন আতঙ্ক লাম্পি ভাইরাস কৃষকের গোয়াল ঘর খালি করছে।
রংপুরের পীরগঞ্জে একটি পৌরসভা ও ১৫ টি ইউনিয়নে লাম্পি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিদিন গরু আক্রান্ত হচ্ছে লাম্পি স্কিন নামের ভাইরাস রোগে। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে দুশ্চিন্তায় গোটা উপজেলার কৃষক।
উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী এলাকা সরেজমিন ঘুরে কথা হয় গরু মালিকদের সাথে। ভুক্তভোগীরা জানায়, এ রোগ এতোটাই ভয়াবহ যে কোনো ঔষধ কাজ করছে না। সুস্থ সবল গরু সন্ধ্যায় গোয়াল ঘরে তুলে রেখে সকালে গিয়ে দেখা যায় গরুর গোটা শরীর ফুলে গেছে এবং খুড়িয়ে হাটছে। ফুলে যাওয়া স্থানগুলো ২/১ দিনের মধ্যেই গরুর চামড়ায় ফোস্কা পড়ার মতো হবার পর দগদগে ঘা হয়। এরপর ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বের হয়। পল্লী চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী মলম, তেল, পাউডার জাতীয় কেন্ডুলা ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসার পরেও অনেক গরু মারা যায়। বিশেষ করে শংকর জাতের ছোট বাছুর গুলোকে এই রোগে আক্রান্ত হলে আর বাঁচানো যায় না। এলাকার লোকজন বলছেন, চিকিৎসকের অভাবে লাম্পি স্কিনের স্থানীয় হাতুড়ে চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষ কে বোকা বানিয়ে এন্টিবায়োটিক ধরনের ইঞ্জেকশন পুশ করে ইচ্ছেমতো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও এলাকায় কিছু হোমিও চিকিৎসকও এক হাতে টাকা আরেক হাতে পানি পড়া দিয়ে টাকা কামাচ্ছেন। এসব চিকিৎসার ব্যপারে উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের পক্ষ থেকে ব্যপক প্রচারের প্রয়োজন থাকলেও তা করা হচ্ছে না। উল্টো গ্রামে গঞ্জে তাদের দেখাই মেলে না। এই সুযোগকেই কাজে লাগাচ্ছেন হাতুড়ে চিকিৎসকরা। কাবিলপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের ইউনুছ আলী জানান, আমার দেশি জাতের ৩ মাসের বাছুর এবং গাভী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। কোনো চিকিৎসায় কাজে আসেনি। আমার সংসারে আশা ভরসা ছিল এই গরু। দুধ বেচে চলতো। এখন আমার কিভাবে চলবে বুঝতে পারছি না। একই এলাকায় গত ১ মাসের মধ্যে শামসুল আলম, সাইফুল ইসলাম, বাদশা মিয়া, দেলবার রহমান এবং মমিন মিয়ার একটি করে গরু লাম্পি স্কিনে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ওই গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে মশিউর রহমান জানান, ৮০ হাজার টাকার বিদেশি বাছুর মারা গেছে তার। গরুটির স্বাস্থ্য খুবই ভালো ছিল এবং আগামী ঈদে এটি কমপক্ষে দেড় লাখ টাকা বিক্রি হতো। গরুটি দিয়েই তার গোয়াল ঘর ভরা ছিল। ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এখন তার গোয়াল ঘর ফাকা পড়ে আছে। বড় আলমপুর এলাকার রুহুল আমিন, আব্দুর রশিদ মিয়া এবং বাশপুকুরিয়া গ্রামের রেজাউল করিম জানান, কিছুদিন আগে তাদের এলাকার ছোট ছোট বাছুর গুলো ভাইরাস রোগে শেষ হয়ে গেছে। বন্যার সময় করতোয়া নদীতে প্রতিদিন মরা বাছুর পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে এলাকার লোকজন। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণিস্পদ কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, লাম্পি স্কিন রোগটি এখন কমেছে। তিনি বলেন এ রোগের চিকিৎসা শুধু মাত্র প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ। চামড়া উঠে যাওয়া ক্ষতস্থানগুলো শুকাতে একটু সময় লাগে। কোনো গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হলে গরুটিকে সবসময় মশারীর ভিতর রাখতে হবে এবং গোয়াল ঘর পরিস্কার পরিছন্ন রাখতে হবে। এই রোগটি মশা-মাছির মাধ্যমে ছড়ায়। প্রাণী সম্পদ অফিসারের লোকজন সবসময়ই গরুর মালিকদের কে মশারী বা গোয়াল ঘর পরিস্কার রাখার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলেও তিনি জানান।
Copyright © 2026 Daily Deshmaa. All rights reserved.