
পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (পবিস) এর পীরগঞ্জ জোনাল অফিসে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) যোগদানের পর থেকে হয়রানির মাত্রা বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করছেন ভূক্তভোগী গ্রাহকরা। পীরগঞ্জ জোনাল এলাকার গ্রাহকরা এখন সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ মামলা, মিটার ও তার খুলে নেওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন।
অভিযোগে জানা যায়, এক সাংবাদিক গত ৭ জুলাই একটি বাণিজ্যিক সংযোগের জন্য অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেন। আবেদনটি কোন যাচাই-বাছাই ছাড়াই বাতিল করা হয়। তিনি পুনরায় আবেদন করেন কিন্তু এবারও তাকে রহস্যজনক কারণে সংযোগ না দিয়ে নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। হয়রানির শিকার সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ সাব এডিটরস কাউন্সিলের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সাধারন সম্পাদক। তার বাড়ি উপজেলার আরাজী গঙ্গারামপুরে। অভিযোগ করে তিনি বলেন, পবিস-১ পীরগঞ্জ জোনাল অফিস থেকে সংযোগ না দেয়ায় ব্যবসা কার্যক্রম চালু করতে পারছিনা। আমি আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। তিনি আরও বলেন, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আজাদ বিজনেস মার্ট’র এ্যাঙ্গেল ও প্রোফাইল শীট জয়েন্টের কাজ পাশর্^বর্তী সংযোগ থেকে করার অভিযোগে ওই সংযোগটির তারসহ মিটার গত ৭ আগস্ট রাতের আধাঁরে খুলে নিয়ে যায় জোনাল অফিসের লোকজন। ১০ আগস্ট বিষয়টি সুরাহার জন্য ভুক্তভুগী সাংবাদিক মিটারের মালিকসহ বিদ্যুতের জোনাল অফিসে উপস্থিত হলে বিদ্যুৎ স্টাফরা জনান এ বিষয়ে ডিজিএম রবিউল ইসলামের সাথে কথা বলতে হবে। সেই মোতাবেক সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ ডিজিএম রবিউল ইসলামের সাথে কথা বলতে তাঁর কক্ষে প্রবেশ করলে সেখানে আগে থেকেই বসে থাকা পবিস এর পরিচালক রাশেদুল ইসলাম এবং সাবেক পরিচালক মিলন খানের উপস্থিতিতে জানান আপনি অনেক বড় পরাধ করেছেন, বিদ্যুৎ চুরি করেছেন। এই অপারাধে আপনাকে ১৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দিতে হবে এবং জেলও খাটতে হবে। এই টাকা না দিলে আপনাকে সেনাবাহিনী দ্বারা তুলে নিয়ে এসে ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এই কথা বলেই তিনি সাংবাদিক আজাদকে রুম থেকে বের করে দেন।
এছাড়াও গ্রাম্য ডাক্তার দিলদার রহমান সরকার বাড়ি বড় আলমপুর ইউনিয়নের তাতারপুর গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে থাকেন পীরগঞ্জ উপজেলা সদরে। বর্তমানে তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্থ রোগী। কথা বলতে পারেন না এবং হুইল চেয়ার ছাড়া চলাফেরাও করতে পারেননা। তার নামে গ্রামের বাড়িতে রয়েছে একটি সংযোগ। ওই সংযোগে মিটারটিতে বকেয়া পড়ে ৭ মাস। সেই মিটারটির লাইন কাটতে গেলে তার ভাতিজা বকেয়া বিল পরিশোধ করতে চাইলে কথা কাটাকটি হয়। এক পর্যায়ে চাচা-ভাতিজার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দুটি মিটারই কেটে আনা হয় অফিসে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ দিয়ে প্রসিকিউশনের মাধ্যমে দ্রুত রংপুর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে আদালত মামলাটির নিষ্পত্তির জন্য গ্রাম্য আদালতে পাঠায়। মামলাটি গ্রাম্য আদালতে বিচারের দিনক্ষণ নির্ধারণ হলে ওডিজিএম উপস্থিত না হয়ে হয়রানি করছেন। প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকুরীরত পৌরসভার গাড়াবেড় গ্রামের সম্রাট। তার নতুন বাড়ির ওয়্যারিং করে মিটারের জন্য আবেদন করেছেন ছয়মাস আগে কিন্তু তাঁকে মিটার দেয়া হচ্ছেনা। কি কারণে দেয়া হচ্ছেনা সেটিও তিনি জানতে পারছেন না।
শুধু সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ, ডাক্তার দিলদার রহমান সরকার কিংবা সম্রাট নন। এরকম শত শত গ্রাহক নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মামলা খাচ্ছেন, হুমকি ধমকির মধ্যে পড়ছেন। একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতি অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী গ্রাহকদের।এ ব্যাপারে ডিজিএম রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। যার ভিডিও ধারণ করা আছে।