শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পীরগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসকসহ জনবল সংকটে ভোগান্তির শিকার রোগীরা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ৫ লক্ষাধিক মানুষের জন্য একমাত্র স্বাাস্থ্য সেবা কেন্দ্র পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ২০০৯ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। আসবাবসহ আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হয়েছে। তখন নিয়োগ দেয়া হয় একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। তারপরেও বাড়েনি স্বাস্থ্যসেবার মান। তবে এখন জনবল সংকটসহ নানা কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এক সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি প্রসূতি সেবা (ইওসি) কার্যক্রমের আওতাভুক্ত হলেও এখন নেই। ফলে ঝুঁকি নিয়ে ৪৮ কিলোমিটার দুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আরএমও, কনসালট্যান্টসহ চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ২৩ হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন ডাক্তার। কাগজে-কলমে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের ১৬ টি পদের বিপরীতে ১০ জন থাকলেও পীরগঞ্জে কর্মরত ৭ জন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ জুনিয়র কনসালট্যান্ট মেডিসিন, গাইনি, শিশু, অর্থোপেডিকস, কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞসহ ইএমও, আইএমও, এক সহকারি সার্জন ও দু’জন মেডিকেল অফিসার আছেন। তবে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি), অ্যানেস্থেশিয়া, ফিজিক্যাল মেডিসিন, চক্ষু, ইএনটি, চর্ম ও যৌন বিশেষজ্ঞসহ এক সহকারি সার্জন, এ্যানেস্থেটিষ্ট, এক মেডিকেল অফিসার, ডেন্টাল সার্জন, মেডিকেল অফিসার ইউনানিসহ চিকিৎসক নেই। এছাড়াও ১৬টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র্রের ৯টি মেডিকেল অফিসার পদে আছেন ৪ জন ও ৭টি সহকারি সার্জনের পদে আছেন ৩ জন। এদের মধ্যে ৩ জন ছাড়া ইউএইচএফপিও সহ বাকী ডাক্তাররা থাকেন জেলা শহর রংপুরে। এ হাসপাতালে ডাক্তারদের আসা যাওয়ার কোন নিয়ম নীতি নেই। মেডিকেল টাইম সকাল সাড়ে আটটায় শুরু হলেও রংপুর শহরে বসবাসরত ডাক্তারদের অনেকেই সকাল ১১টার আগে হাসপাতালে পৌছাতে পারেন না। আবার তারা দুপুর ১টার আগেই চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন। এছাড়াও কয়েকজন ডাক্তার আবার হাসপাতালে আসেন একদিন পরপর। সনোলজিষ্টের অভাবে পড়ে আছে অত্যাধুনিক ফোর-ডি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। অথচ হাসপাতালে কর্মরত প্রায় সকল ডাক্তাররা পার্শ্ববর্তী প্যাথলজিগুলোতে বসে দিব্যি আলট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট করছেন। হাসপাতালে দুটি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ড্রাইভার একজন থাকায় রোগীদের রংপুরে নিয়ে যেতে জনগনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ টাকা দিয়ে বাহির থেকে মাইক্রোবাস ভাড়া করতে হয়। জ্বালানি সংকটে অ্যাম্বুলেন্স সেবাও ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত মানের একটি জেনারেটর থাকলেও রহস্যজনক কারণে বিদ্যুত চলে গেলেও সেটি চালু করা হয় না। ফলে কুপকুপে অন্ধকারে ভুতুড়ে অবস্থা বিরাজ করায় রোগীর অভিভাবকদের ছুটতে হয় মোমবাতির খোজে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় হাসপাতালে রোগীদের ভীড় বাড়ছে। আরএমও না থাকায় রায়পুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারি সার্জন ডাঃ তারিকুল ইসলাম মন্ডল এ দায়িত্বে নিয়োজিত। পদ শুন্য থাকায় ইউনিয়ন সেবা কেন্দ্রগুলোয় চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত গ্রামের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। ৫৫টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৫৪ জন সিএইচসিপি থাকলেও কাঙ্খিত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রয়েছে কর্মচারী সংকটও। তিনটি ওয়ার্ড বয়ের পদ থাকলেও আছেন ২ জন। পাঁচজন এমএলএসএসের স্থলে কর্মরত আছেন ৩ জন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাসুদ রানা জানান, চিকিৎসক সংকটে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অল্প কয়েকদিন আগে এসেছেন। এই হাসপাতালে রোগীদের উপচেপড়া ভীড় দেখছেন প্রতিনিয়ত। হাসপাতালটি ১০০ শয্যা করা জরুরী, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য সহকারি ৫৫ পদের ৩৩ টি শুন্য থাকায় রুটিন ইপিআই কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অ্যাসিষ্ট্যান্ট মেডিকেল অফিসার ১০টি, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট ২টি, ফার্মাসিষ্ট ২টি, সহ-স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৭টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক ৩টি, অফিস সহায়ক ৮টি, পরিছন্নতাকর্মী ৩টি, নিরাপত্তা প্রহরী ২টি, বাবুর্চি ২টি, আয়া ১টি, জুনিয়ার মেকানিকসহ ৯৮ জনের পদ শুন্য রয়েছে। গাইনী চিকিৎসক থাকলেও অ্যানেস্থেশিয়া না থাকায় সিজার করা যাচ্ছে না বলে জানান ইউএইচও ডা: মাসুদ রানা। তবে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে না থাকার বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This