
হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ১নং খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল কাশেম এর বিরুদ্ধে সরকারের ভিডব্লিউবি (ভলনারেবল উইমেন বেনিফিট) কর্মসূচির কার্ড দেওয়ার নামে টাকার সাথে বাড়িতে পালিত রাজহাঁস ঘুষ হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ওই ইউপি সদস্য একই ইউনিয়ন শাখা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বে আছেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগে জানাগেছে, ইউপি সদস্য আবুল কাশেম ভিডব্লিউবি কর্মসূচির কার্ড ছাড়াও প্রতিবন্ধী ভাতা, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পল্লী কর্মসংস্থান ও সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (আরইআরএমপি) সদস্য করে দেওয়ার কথা বলেও টাকা নিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ওই ওয়ার্ডের ২০ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্তও ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১০ নভেম্বর ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের কাছে ইউপি সদস্যের নামে নওদাপাড়া গ্রামের বুলিবিবি একটি লিখিত অভিযোগে জানান, চার মাস আগে তার ছেলের স্ত্রীর মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য আবুল কাশেম দুই হাজার টাকা নিয়েছেন। কিন্তু চার মাস অতিবাহিত হলেও ইউপি সদস্য তার ছেলের স্ত্রীর নামে কার্ড করে দেননি। এব্যাপারে বারবার ইউপি সদস্যকে বললে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করছেন।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের বিলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ হাসান জানান, ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আমি গত ১৯ নভেম্বর ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। অভিযোগে আমি উল্লেখ করেছি, চার মাস আগে আমার মা ভিডব্লিউবি কর্মসূচির একটি কার্ড করার জন্য ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের কাছে যান। তখন ইউপি সদস্য আমার মায়ের নামে কার্ড করে দিবে বলে চার হাজার টাকা ঘুষ চান। পরে আমার মা ইউপি সদস্যকে নগদ দুই হাজার টাকা দিয়ে বলেন বাকি দুই হাজার টাকা কয়েকদিন পরে দিবেন। কিন্তু দেরি না করে ঘুষের অবশ্লিষ্ট দুই হাজার টাকা নিতে ইউপি সদস্যের স্ত্রী আমাদের বাড়িতে যান এবং আমার মায়ের পালিত একটি বড় রাজহাঁস ধরে নিয়ে যান।
জাহিদ হাসান আরও জানান, ওই ইউপি সদস্যের ঘুষের টাকা ও রাজহাঁস নেওয়ার ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে তার বিরুদ্ধে আমরা যেন কোথাও না বলি এজন্য তিনি আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
জানতে চাইলে খট্টামাধবপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. কাওছার রহমান বলেন, আবুল কাশেম তার ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজনকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ৪টি লিখিত অভিযোগ ছাড়াও অন্তত ৩০ জনের কাছ থেকে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি চূড়ান্ত তদন্তের মাধ্যমে দোষী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিধি অনুয়ায়ি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ২০ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ইউএনও’র কাছ থেকে সাড়া পাইনি। ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তার সহকর্মীদের অশ্লীলভাষা সহ হেনস্থা করারও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগ সম্পর্কে ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বলেন, আমার স্ত্রীর কাছে দুই হাজার টাকা দিয়ে গেছে এটা আমি জানতাম না। আমার ওয়ার্ডের বুলি বেগম তার ছেলের স্ত্রী শাবনাজের মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য নাকি এই টাকা দিয়ে গেছে। বিষয়টি পরে জানছি। আমার স্ত্রী যখন আমাকে বলছিল, শাবনাজের কার্ডটা করে দেওয়ার জন্য তখন জানছি। আমি কইছি নভেম্বর মাসে করে দিব।
রাজহাঁস ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার বাড়িতেই তো ৭০ থেকে ৮০টা হাঁস আছে। আমি কেন জাহিদের বাড়ি থেকে রাজহাঁস নিব। কাওছার চেয়ারম্যান ওই জাহিদকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করাইছে বলে তিনি দাবি করেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি তার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।