ফুলবাড়ীতে উঠতে শুরু করেছে তরমুজ, দাম বেশি ক্রেতা কম


নিজস্ব প্রতিবেদক
শীতের জরাজীর্ণতা কাটিয়ে ফাল্গুনের ধুলো উড়া বাতাসে পড়তে শুরু করেছে গরম। সকালের সূর্য্য জানান দিচ্ছে চৈত্রের খড়ার আগমনী বার্তা। তাবদাহ আসতে কিছুটা দেরি থাকলেও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এরই মাঝে উঠতে শুরু করেছে গরম কালের জনপ্রিয় ফল তরমুজ। বছরের নতুন এই ফল রোজাদারদের আকৃষ্ট করলেও দাম কিছুটা চড়া হওয়ায় দেখা দিয়েছে ক্রেতার আকাল।
সরেজমিনে পৌর শহরের নিমতলা মোড়, ঢাকামোড়, বাসষ্ট্যান্ড ও টিটির মোড়ে দেখা গেছে সড়কের পাশে ফুটপাতে তরমুজের দোকান। বিভিন্ন আকারের ও রঙের তরমুজ সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তবে ক্রেতা কিছুটা কম। দোকানে কিছু কিছু ক্রেতা আসলেও দাম মনোপুত না হওয়ায় ঘুরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ চাহিদা ও দামের হিসেব কষে প্রয়োজন মত কিনছেন। গরম শুরু না হওয়ায় এখনও চাহিদা কিছুটা কম। অন্যদিকে রোজাদার মুসল্লিদের নজর এখন খেজুর, কলা, বড়ইসহ অন্যান্য ফলের দিকে থাকায় জমে ওঠেনি তরমুজের বাজার।
পৌর শহরের নিমতলা মোড়ের তরমুজ ব্যবসায়ী মো. সুজন বলেন, প্রতি কেজি তরমুজ ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। বরিশালে উৎপাদিত তরমুজ জয়পুরহাট মোকাম থেকে পিস ও মণ হিসেবে কিনে কেজি দরে বিক্রি করছি। এখনও তেমন গরম না পড়ায় ক্রেতা কিছুটা কম। বেশি দামে কেনা তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আরেক ব্যবসায়ী মমতাজ বেগম বলেন, মাটির অবস্থান ভেদে অনেক সময় অপরিপক্ক তরমুজ সাইজে বড় হলেই বাজারজাত করা হয়। তবে এখানকার তরমুজ ভালো মাটির তাই পরিপক্ক। মৌসুমের প্রথমে যে কোন ফলের দাম একটু বেশি থাকে। বর্তমানে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি।

এদিকে তরমুজ ক্রেতা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের নতুন ফল হলেও দাম কিছুটা বেশি। তাছাড়া কেজি দরে বিক্রি করছে অর্থাৎ একই দামে তরমুজের খোসাও কিনতে বাধ্য হচ্ছি আমরা।
শাহিন আহমেদ নামে এক ক্রেতা বলেন, আগাম জাতের পরিপক্ক বলা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভেতরে অপরিপক্ক সাদা বীজ দেখা যাচ্ছে। ছেলে মেয়ের আবদারে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের দিনাজপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বোরহান উদ্দিন জানান, বিক্রেতা পিস অথবা কেজি উভয় ভাবে তরমুজ বিক্রি করতে পারে। এক্ষেত্রে ধরা বাঁধা কোন আইন নাই। এখনকার তরমুজ অপরিপক্কই হবে, কারণ পরিপক্ক তরমুজ মার্চের শেষে পাওয়া যায়। এজন্য ক্রেতার উচিৎ তরমুজ কেটে দেখে শুনে নেয়া। ক্রেতা যেভাবে নিতে চায় বিক্রেতা সেই ভাবে দিতে বাধ্য।
