সোমবার, ১৩ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফুলবাড়ীতে বাস যাত্রীকে মারধরের প্রতিবাদে ৪ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে যাত্রীবাহী মেইল বাসের যাত্রীদের গন্তব্যে নামিয়ে না দেওয়ায় বাকবিতণ্ডার জেরে ২ যাত্রীকে পার্শ্ববর্তী উপজেলায় নিয়ে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলবাড়ী উপজেলার লক্ষিপুর বাজারে অবরোধ করেন। ৪ ঘন্টা পর উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই যাত্রীদের উদ্ধার করা হলে ও দোষীদের বিচারের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
জানা যায়, দিনাজপুর থেকে ফুলবাড়ীর লক্ষিপুরের উদ্দেশ্যে রোববার (২২ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় মেইল বাসে ওঠেন ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের লক্ষিপুর বাজার এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে মহসীন আলী (২৮) ও একই এলাকার সেকেন্দার আলী ছেলে সুলতান আলী (২৫)। এসময় বাসের সুপারভাইজার (কন্টাক্টর) তাদেরকে লক্ষিপুরে নামিয়ে দেয়ার কথা বলে গাড়িতে ওঠান। কিন্তু লক্ষিপুরে গাড়ি না থামিয়ে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলায় নামিয়ে দিতে চাইলে শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। একপর্যায়ে গাড়িতে বাসের লোকজনের সাথে ওই যাত্রীদের হাতাহাতিও হয়। এসময় গাড়ি না থামিয়ে ওই দুজনকে নিয়ে যায় বিরামপুর বাসস্টোপেজে। ওই দুই যুবককে বেঁধে লোহার রড, পাইপ ও লাঠিসোটা দিয়ে মারধর করে বেঁধে রাখা হয়। পরে তাদের কে ডাকাতি মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেয়া হয়। একপর্যায়ে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। এ খবর লক্ষিপুর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দুপুর ১টায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। এসময় মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৮ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এত দুর্ভোগে পড়েন রোযা রাখা মহিলা শিশু সহ দূর-দূরান্তের যাত্রীরা। পরে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ হাছান, ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহিনুর রহমানসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪ ঘন্টার পর বিকেল ৫টায় ওই দুই যুবককে উদ্ধারের পর বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এঘটনায় আহত মহসীন আলী ও সুলতান আলী জানান, আমরা দিনাজপুরে বাসে ওঠার সময় তাদেরকে ফুলবাড়ীর লক্ষিপুর বাজারে নামার কথা বলে উঠেছি। লক্ষিপুর পর্যন্ত ভাড়াও দিয়েছি। কিন্তু লক্ষিপুর বাজারে এসে তারা বাস না থামিয়ে পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলায় নিয়ে যেতে চাইলে আমরা প্রতিবাদ করি। কারণ লক্ষিপুর বাজার থেকে বিরামপুর প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। বাকবিণ্ডার এক পর্যায়ে তারা অশালীন ভাষা ব্যবহার করে। তাদের সাথে হাতাহাতি হলে তারা বাস না থামিয়ে বিরামপুরে নিয়ে যায়। সেখানে বেঁধে আমাদেরকে রড, পাইপ, লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাথারি মারধর করে। পড়ে থানায় সোপর্দ করে।
এদিকে মহাসড়ক অবরোধ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। লক্ষিপুর বাজারে ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ দফায় দফায় অবরোধকারীদের সাথে আলোচনা করলেও কোন সমাধান না হয়নি। পরে খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামীম হোসেনকে ইউএনওর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠিয়ে বিরামপুর থানা থেকে আটক ওই দুই যুবককে ছাড়িয়ে আনা হয়।
ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহমেদ হাছান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। পরবর্তীতে পুলিশের ফুলবাড়ী ও বিরামপুর সার্কেল অফিসার, বাস মালিক ও শ্রমিক পক্ষ, ভুক্তভোগী যাত্রীসহ জনপ্রতিনিধিরা আলোচনায় বসে সমাধান করা হবে।#

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS