ফুলবাড়ীতে ব্যর্থতা নিয়েই শেষ হলো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান


নিজস্ব প্রতিবেদক
আপদকালীন মজুদ গড়তে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আড়াই মাস আগে আমন মৌসুমের ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে সরকার। এতে লক্ষমাত্রার শতভাগ চাল সংগ্রহ হলেও এক ভাগ ধানও সংগ্রহ হয়নি।
লোকসান করে হলেও চুক্তিবদ্ধ চালকল মালিকেরা গুদামে শতভাগ চাল সরবারাহ করায়, সেদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে বাজারের চেয়ে সরকার নির্ধারিত দাম কম এবং খাদ্যগুদামে ধান দিতে যে পরিমাণ মশ্চেয়ার দরকার কৃষকরা তা করতে চান না। সে কারনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে ধান সংগ্রহ। আর ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার ব্যর্থতা নিয়েই গতকাল শুক্রবার থেকে শেষ হয়েছে এই ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর থেকে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে এই উপজেলা থেকে ১ হাজার ২৫৮ মেট্রিকটন ধান এবং ৩ হাজার ২৫৮ দশমিক ৩৩ মেট্রিকটন সেদ্ধ চাল ও ৭৯৫ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
চাল সংগ্রহের জন্য উপজেলার ৮৯ টি হাসকিং ও ১০ টি অটো রাইস মিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরমধ্যে ৪৯টি হাসকিং মিল এবং ১০ টি অটো রাইস মিল খাদ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি আমন ধানের দর ১ টাকা বাড়িয়ে ৩৩ টাকা, কেজিতে ৩ টাকা বাড়িয়ে ৪৭ টাকায় সেদ্ধ চাল আর কেজিতে ১ টাকা বাড়িয়ে আতপ চালের দাম নির্ধারণ করা হয় ৪৬ টাকা।
উপজেলা খাদ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৭ নভেম্বর এক মেট্রিকটন ধান ও এক মেট্রিকটন টন সেদ্ধ চাল ক্রয়ের মধ্য দিয়ে ধান-চাল অভিযানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী দিনে ১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা গেলেও এরপর থেকে এ পর্যন্ত আর এক কেজি ধানও সংগ্রহ করা যায়নি। তবে চুক্তি থাকায় চালকল মালিকেরা ৩ হাজার ২৫৮ দশমিক ৩৩ মেট্রিকটন সেদ্ধ চাল এবং ৭৯৫ মেট্রিক টন আতপ চাল সরবরাহ করেছেন। সে অনুযায়ী সেদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ হলেও ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা এক শতাংশও হয়নি। এ অবস্থাতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সংগ্রহ অভিযান শেষ হয়েছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুরের মেসার্স আফতার হাসকিং মিলের স্বত্বাধিকারী মো. আফতার আলী বলেন, বাজারে ধানের দাম বেশি থাকায় প্রতি কেজি চাল উৎপাদনে ৫০ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এরপরও শুধুমাত্র চুক্তি থাকার কারনে তিনি লোকসান দিয়ে খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করেছেন। তিনি বলেন, এতে আর্থিকভাবে তার লোকসান হয়েছে। সরকার চাইলে কোন প্রণোদনার মাধ্যমে আমাদের এই ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে দিতে পারে।
উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক শাহিনুর ইসলাম বলেন, সরকারি খাদ্যগুদামে ধান দিতে গিয়ে ধান দেয়ারপর ব্যাংকে টাকা নেয়াসহ ঝামেলা পোহাতে হয়। গুদামে ধান দিলে তাদের প্রতি মণ ধানে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হয়। তাই তারা খোলা বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। তাছাড়া সরকারি খাদ্য গুদামে নির্দিষ্ট পরিমাণ শুষ্কতা ছাড়া কর্মকর্তারা ধান কেনেন না। তাই সেখানে ধান দিতে তারা আগ্রহ দেখান না।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. সোহেল আহমেদ এর দাবি, খাদ্যগুদামে ধান দিতে যে পরিমাণ মশ্চেয়ার দরকার কৃষকরা তা করতে চান না। তাই কৃষক ঝামেলা এড়াতে আমাদের ধান দিতে অনিহা প্রকাশ করে। এ কারণেই ধান সংগ্রহে ব্যর্থতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে চাল সংগ্রহের জন্য খাদ্য বিভাগে চুক্তিবদ্ধ চালকল মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করে চাল সংগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। তবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও এর প্রভাব পড়বে না। সরকারের উদ্দেশ্য মূলত কৃষক যেন ধানের দাম পায় এবং তারা ভালো দাম পাচ্ছে।
