
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১শ থেকে ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চত্ত্বরে কর্মবিরতি পালন করেন বৈষম্যের শিকার মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এসময় দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীরা পড়েন ভোগান্তিতে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের আউটডোরে ব্যানার টাঙিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। এসময় হাসপাতালের আউটডোরে ও প্যাথলজি ছিলো সম্পূর্ণ বন্ধ। এসময় সেবা নিতে আসা রোগীরা পড়েন ভোগান্তিতে। অনেকে জরুরী পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বাধ্য হন।
কথা হয় মধ্যপাড়া থেকে আসা রহিমুদ্দীন (৫০), মাদিলাহাট থেকে আসা ফারজানা খাতুন (২৪) ও কাজিহাল এলাকা থেকে আসা খায়রুল হকের সাথে। তারা বলেন, রোগী নিয়ে জানতে পারেন কর্মবিরতি চলছে। তাই বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে।
এদিকে কর্মবিরতি পালনকারীরা জানান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার হয়েও সেবাদান চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যান্য ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স ও কৃষিবিদরা ১১ থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হলেও আমাদের গ্রেড বাস্তবায়ন হয়নি। এঅবস্থায় আমাদের অধিকার আদায়ে আমরা সারাদেশের সাথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি। এই সময়ে রোগীরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। সরকারের উচিৎ দ্রুত ১০ম গ্রেড বাস্তবায়ন করে রোগীদের ভোগান্তি নিরসনের ব্যবস্থা করা। গত ৩০ নভেম্বর ২ ঘন্টা কর্মবিরতি পালন করলেও কর্তৃপক্ষ কোন গুরুত্ব দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আজ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ৪ ঘন্টা কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে। এতেও যদি দাবি আদায় না হয় তবে পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে। এভাবে কঠোর থেকে কঠোর কর্মসূচী আসতে পারে বলেও জানান তারা।
এসময় বক্তব্য রাখেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) গোলাম মোস্তফা, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিও গ্রাফার) অরুণাভ সরকার, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) তৌহিদুজ্জামান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) আবু সুফিয়ান, ফার্মাসিস্ট রাইটার আহসান হাবীব, ফার্মাসিস্ট শাহীন আলম প্রমুখ।