শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফুলবাড়ীর নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনী মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক
কেউ গৃহীনি, কেউ কলেজ বা বিশ^ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সকলেই নারী। কেউ নিজেই তৈরি করেছেন কেক, আইসক্রিম। আবার কেউ কাপড়ে করেছেন হরেক রকম ডিজাইন। কেউবা নকশি কাথা। আবার কেউ মাটির জুয়েলারী নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন ফুলবাড়ী যুব উদ্যোগক্তার উদ্যোগে নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শনি মেলায়।
আজ রোববার স্থানীয় সুজাপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় সভাকক্ষে আয়োজিত এ মেলায় এমনি দৃশ্য চোখে পড়ে। মেলার উদ্বোধন করেন ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তাফিজার রহমান। মেলাটি সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে। নারী উদ্যোক্তাদেরসহ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে প্রথমবারের মতো এই পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করছে, যেখানে ১০ জন উদ্যোক্তা কোনোপ্রকার খরচ ছাড়াই নিজস্ব স্টল দিতে পেরেছেন।


কংকনা রায় ইংরেজিতে অনার্স পড়ছেন। লেখা পড়ার পাশাপশি কৃপায়িনী নামের একটি প্রতিষ্ঠান করেছেন। তিনি ব্লক, হ্যান্ড পেইন্ট, বাটিক ও হাতে তৈরি মাটির গহনা নিয়ে কাজ করছেন। মেলায় প্রদর্শনের এসব পণ্যের পসরা নিয়ে তিনি স্টল দিয়েছেন। কংকনা বলেন, পদর্শনীতে যা আছে তা আছেই, তারপরও কেউ কষ্টমাইজ ডিজাইন চাইলেও তা করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, মফস্বল শহরে আমরাও চেষ্টা করছি নিজেদের কাজে লাগাতে।
এসময় কথা হয় লিমা আক্তারের সাথে তিনি গৃহীনি। তিনি নকশি কাথা নিয়ে কাজ করছেন। উদ্যোক্তা মেলায় এসেছেন বেশ কিছু কাথার সেম্পল নিয়ে। তিনি বলেন, নকশি কথা তৈরিতে সময় লাগে প্রচুর। তারপরও চেষ্টা করছি। বাড়ির নানা কাজের পাশাপাশি নিজেই কিছু করতে।
এছাড়া কথা হয় বেক মি হ্যাপীর স্বত্ত্বাধিকারী ইসরাত জাহান ইতি, রংমিছিলের স্বত্ত্বাধিকারী আইরিন আক্তার হিরা, ফাইজা ফ্যাশনের স্বত্ত্বাধিকারী মর্তূজান নাহার মিতু, শারমিন আক্তার, শিরিন আক্তারসহ অনেকের সাথে। তাদের কথা নারী সব জায়গায় কিছু না কিছু করছে। তাই আমরাও উপজেলা শহর থেকে চেষ্টা করছি।
এসময় আয়োজক ফুলবাড়ী যুব উদ্যোক্তা পরিবারের সভাপতি কংকনা রায় ও সাধারণ সম্পাদক ইসরাত জাহান ইতি বলেন, সরকার অনুমোদিত এই সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্যই হলো ফুলবাড়ীর সকল উদ্যোক্তাদের এক প্লার্টফর্মে আনা। যেখানে সবাই মিলেমিশে নিজেদের তৈরি খাবার ও পণ্য বেচাকেনাসহ অন্যদের কর্মসংস্থানের পথ করে দিতে পারবো। উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষেই আমাদের এই আয়োজন। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিসহ বেকারদের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে। সরকারিভাবে প্রশিক্ষণসহ সুযোগ-সুবিধা পেলে উদ্যোক্তাদেরকে এগিয়ে নেয়া যাবে। কেনোনা অনেক উদ্যোক্তারা হাতের অনেক কাজ জানেন কিন্তু অর্থের অভাবে মালামাল ক্রয়সহ পণ্য তৈরি করে বাজার জাত করতে পারছেন না। তাই এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This