
নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী সরকারি কলেজে দিনভর বসন্ত উৎসব ও পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার দিনব্যাপী কলেজের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এই বসন্ত উৎসব ও পিঠা মেলা। বসন্তের আগমনী বার্তায় ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নতুনের আনন্দ, পলাশ-শিমুলের রঙ আর উৎসবের আমেজ। নাচ, গান, হাসি আর আড্ডায় তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে উঠে কলেজ প্রাঙ্গণ।
সকাল সাড়ে ৯টার বসন্তের রঙিন পোশাকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সমবেত হয়। হলুদ, লাল ও কমলা রঙের শাড়ি-পাঞ্জাবিতে শিক্ষার্থীদের সাজে প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠে কলেজের চারপাশ। বসন্ত থিমের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই অড়োম্বর আয়োজন। সকাল ১০টায় বের হয় বসন্ত বরণ আনন্দ র্যালি, যা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে মূল মঞ্চে এসে শেষ হয়।
দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয় বসন্তের গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য। বসন্তের বিভিন্ন জনপ্রিয় গানে মুখরিত হয় পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় দর্শনার্থীরাও । পাশাপাশি ছিল আনন্দবর্ধক খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক আয়োজন। বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।
এদিকে কলেজ ক্যাম্পোসের এক পাশে সারিসারি ভাবে নানা রকম মজাদার পিঠার পরসা ও নারী উদ্বোক্তাদের তৈরী কেক, শোপিছ, কাপড়সহ নানা রকম সাজসজ্জার পন্য সাজিয়ে দেয়া হয় বেশ কয়েকটি স্টল।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী সঞ্চিতা রায় বলেন, “বসন্ত মানেই নতুনের শুরু। শীতের নির্জীবতা পেরিয়ে প্রকৃতি যেমন নতুন রঙে সেজে ওঠে, তেমনি আমাদের মনেও জাগে নতুন স্বপ্ন। এই উৎসব আমাদের সেই স্বপ্ন দেখার শক্তি দেয়।”
সুমাইয়া শিমু নামে আরেক শিক্ষার্থী জানান, “বসন্ত শুধু ঋতু নয়, এটি আমাদের বাঙলির সংস্কৃতির অংশ। বন্ধুদের সঙ্গে এমন একটি আয়োজন সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে র্যাফেল ড্র ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। ফুলবাড়ী সরকারি কলেজের বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, দর্শন, রসায়ন ও গণিত বিভাগসহ ডিগ্রি ও উচ্চ মাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এ আয়োজন বাস্তবায়িত হয়।
শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম বলেন, বসন্তের রঙ, গান ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক চর্চা জাগ্রত করাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য। তাই বসন্তের এক দিনের এই মিলনমেলা স্মরণীয় হয়ে থাকবে তারুণ্যের অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে।