বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোন ধর্ম বা জাতিগত বিভেদ নেই- ডাঃ জাহিদ হোসেন

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেছেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে। তার ঐতিহাসিক প্রমাণ হচ্ছে আজ আমরা দেশের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়েছি। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধর্ম বা জাতিগত বিভেদ নেই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এবং সকল দলের লোকজন এই ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। বিএনপি সবসময় সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকতে চায়।
আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ১নং জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বেলঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় মন্ত্রী উপকারভোগী ৬টি পরিবারের ৬ জন নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে এই কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচনের সময় কৃষকদের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। যা কৃষকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। দেশের অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সহায়তার জন্য সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলার কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এটি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দরিদ্র পরিবারের মা-বোনেরা কিছু আর্থিক সহায়তা পাবে, যাতে তারা সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে এবং পরিবারের জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করতে পারে। শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। সবাইকে কর্মমুখী হতে হবে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবারের উন্নতির জন্য কাজ করতে হবে। আড়াই হাজার টাকা খুব বড় অঙ্ক না হলেও এটি অসহায় পরিবারের জীবনে কিছুটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যে অনেক ফ্যামিলি কার্ডধারী তাদের প্রাপ্য অর্থ পেয়েছেন। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে কার্ড পৌঁছে দেবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধর্ম বা জাতিগত বিভেদ নেই। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী যেমন সাঁওতাল ও ওড়াও সম্প্রদায়ের মানুষও এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। রাজনৈতিক পরিচয় এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়, প্রকৃত উপকারভোগীরাই এই সুবিধা পাবে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা, রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কর্মকর্তা, দিনাজপুর জেলা সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক সহ অনেকে।
উল্লেখ্য যে, এদিকে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমকে ঘিরে জয়পুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই ওয়ার্ডের অন্তর্গত ১০টি গ্রামের প্রায় ৮ শতাধিক নারীর মধ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে প্রায় সাড়ে ৫শ পরিবারের নারী প্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS