শনিবার, ১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বগুড়া-৪ আসনে ধানের শীষ নিয়ে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত মোশারফ হোসেন

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়া-০৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী মোশারফ হোসেন। তিনি মোট ১লাখ ৫৪ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ১৯১ ভোট। এছাড়া হাতপাখা প্রতীকে মাওলানা ইদ্রিস আলী পান ১ হাজার ৬১৮ ভোট এবং লাঙ্গল প্রতীকে শাহীন মোস্তাফা কামাল ফারুক পান ৫২৮ ভোট। এবার নন্দীগ্রাম উপজেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নন্দীগ্রামে মোট ৪৯টি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
উপজেলায় মোট ব্যালটভুক্ত ভোটার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬১ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯১টি, যা শতকরা ৭৩.৮৩%। মোট বৈধ ভোটের সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫ এবং বাতিলকৃত ভোট ১ হাজার ৭৯৬টি। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম উপজেলায় অনুষ্ঠিত গণভোট-২০২৬ এর ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭৫ হাজার ২৫৯টি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২৮ হাজার ৩৮২টি।
সামগ্রিকভাবে ভোটগ্রহণ ও গণনাকে কেন্দ্র করে কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ উল্লাস লক্ষ্য করা গেছে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে একই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রার্থী হিসেবে মোশারফ হোসেন প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি পান ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৫ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রার্থী এ কে এম রেজাউল করিম তানসেন নৌকা প্রতীকে পেয়েছিলেন ৮৬ হাজার ৪৮ ভোট। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও মোশারফ হোসেন বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদে গিয়ে নন্দীগ্রাম কাহালুর উন্নয়ন বয়ে এনেছিলেন। যা এখনো বিদ্যমান। দলীয় সূত্র জানায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে গরা সংগঠন বিএনপিতে ২০১৩ সালে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন মোশারফ হোসেন। শুরুতে নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, মামলা-হামলা ও সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এগোতে হয়েছে তাকে। তবুও স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কারণে ধীরে ধীরে নন্দীগ্রাম উপজেলা ও কাহালু উপজেলা সহ পুরো এলাকায় তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। নেতাকর্মীরা জানান, কঠিন সময়ে তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা, আইনি সহায়তা, শিক্ষা-ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও অবকাঠামো সংস্কারে ভূমিকা রেখেছেন।
সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির-মাদ্রাসা সংস্কারসহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থির সময়ে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা ও খোঁজখবর নিয়েছেন। সে সময় দল মত নির্বিশেষে তিনি সকল নেতাকর্মীদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
বিজয়ের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোশারফ হোসেনকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য কাহালু নন্দীগ্রাম উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা শুক্রবার সকাল থেকেই তার গ্রামের বাড়িতে জড়ো হতে থাকেন। সর্বপ্রথম তিনি অসহায় বৃদ্ধ বয়স্ক মানুষদের সাথে দেখা করেন এবং বুকে টেনে নেন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা থেকে যাওয়া নেতাকর্মীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। সাক্ষাৎকালে এমপি মোশারফ হোসেন বলেন, আমি বগুড়া-০৪ আসনের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের ভালোবাসা ও আস্থাই আমার শক্তি। আপনাদের ভালবাসায় আমি আবারো টানা দ্বিতীয়বার এমপি নির্বাচিত হয়েছি। এখন আমার একটাই লক্ষ্য পিছিয়ে পড়া কাজগুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি আপনাদের কাছে বলেছিলাম আমি যদি আবারো এমপি হতে পারি সর্বউচ্চ উন্নয়ন কাহালু এবং নন্দীগ্রামের মাটিতে করবো ইনশাআল্লাহ। আপনারা আপনাদের ভোট দিয়ে কথা রেখেছেন। এবার আমি নন্দীগ্রাম কাহালুর মাটি উন্নয়নের ঘাঁটি করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। অতীতের দুঃখ-দুর্দশা ভুলে আমরা সবাই মিলে উন্নয়ন, শান্তি ও ঐক্যের পথে এগিয়ে যাবএটাই আমার অঙ্গীকার।

Share This

COMMENTS