বড়পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির নতুন ১৩০৫ নম্বর ফেইস থেকে নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন পূর্বেই কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক মাইন অপারেশন খান মো. জাফর সাদিক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উত্তোলনযোগ্য কয়লা শেষ হওয়ায় খনিটির উৎপাদনশীল ১৪১৪ কোল ফেইসের (কয়লা উত্তোলন বা নির্গমন মুখ) মজুদ শেষ হওয়ায় গত বছর ৩০ নভেম্বর উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেন নতুন কয়লা ফেইস থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু করা যাবে। নতুন ফেজে যন্ত্রপাতি স্থাপন করে নির্ধারিত সময়ের ১০ দিন আগেই আবার নতুন ১৩০৫ নম্বর ফেইস থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হলো।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির মহাব্যবস্থাপক মাইন অপারেশন খান মো. জাফর সাদিক জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ১৩০৫ ফেইস হতে গত বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধা ৬ টায় (ডি শিফট) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয়েছে। কয়লা উত্তোলনের শুরুর দিকে প্রথম এক সপ্তাহ ধরে পরীক্ষামূলকভাবে দৈনিক দেড় থেকে দুই হাজার টন এবং পরবর্তীতে দৈনিক তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টন কয়লা উত্তোলিত হবে। তিনি আরও জানান নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে কয়লা সরবরাহের লক্ষ্যে পেট্রোবাংলা এবং বিসিএমসিএল পরিচালনা পর্ষদের দিকনির্দেশনায় বিসিএমসিএল ও কনসোর্টিয়াম-এর কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় শ্রমিকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় ১০ দিন পূর্বেই এ ফেইস হতে কয়লা উত্তোলন শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
খান মো. জাফর সাদিক আরও জানান, ১৪১৪ ফেইসের কয়লা উত্তোলন শেষে সকল ইক্যুইপমেন্ট স্যালভেজ, যথাযথভাবে মেইন্টেন্যান্সকরণ এবং সকল ইক্যুইপমেন্ট ১৩০৫ ফেইসে ইন্সটলেশন শেষে ৪৩ দিন পর এ ফেইস থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হয়। এ ফেইসের কয়লা উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৯৫ লাখ টন। যা আগামী জুন ২০২৫ মাস পর্যন্ত উত্তোলিত হবে বলে আশা করেন তিনি। উত্তোলিত কয়লা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হবে।
১৩০৫ ফেইসের পূর্বে ১৪১৪ ফেইস থেকে গত ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে কয়লা উত্তোলন শেষ হয়। ১৪১৪ ফেইস হতে ৩.৯৫ লাখ টন কয়লা উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে প্রায় ৪.৮১ লাখ টন কয়লা উত্তোলিত হয়েছে, যা লক্ষ্যামাত্রা অপেক্ষা প্রায় শতকরা ২২ ভাগ বেশি বলে এই কর্মকর্তা জানান।