রবিবার, ৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের, পঞ্চগড়ে কম দামে আলু বিক্রি

হায়দার আলী, পঞ্চগড়
পঞ্চগড় জেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে বাজারে আলুর দাম কম থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার আশঙ্কা করছেন অনেক চাষি।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলায় আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ১১০ হেক্টর জমি। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১৩ হাজার ৮৪১ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে দেবীগঞ্জ উপজেলায়, যেখানে ৬ হাজার ৮২৬ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডায়মন্ড, কার্ডিনাল, গ্রানোলা, সানসাইন, রোমানা, এস্টারিক্স, কারেজ, বারি আলু-৮৬, কুইনএনি, এলকেন্ডা এবং দেশি সাদা ও লাল পাখরীসহ বিভিন্ন জাতের আলুর আবাদ হয়েছে।
চাকলা ইউনিয়নের রত্নবাড়ী গ্রামের কৃষক আনোয়ার জানান, গত বছর তিনি এক বিঘা (৩৩ শতক) জমিতে আলুর আবাদ করেছিলেন। এতে প্রায় ৩২ হাজার টাকা খরচ হলেও আলু বিক্রি করে পান মাত্র ২৯ হাজার টাকা, ফলে লোকসান গুনতে হয়। এ বছরও তিনি এক বিঘা জমিতে কার্ডিনাল জাতের আলু চাষ করেছেন। এতে প্রায় ৮০ মণ আলু উৎপাদন হয়েছে। তবে দাম কম থাকায় কিছু আলু প্রতি মণ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করলেও বাকি আলু বাড়িতে সংরক্ষণ করে রেখেছেন। তিনি আশা করছেন, দাম বাড়লে সেগুলো বিক্রি করবেন।
সদর উপজেলার ধনিপাড়া গ্রামের কৃষক জুয়েল বলেন, তিনি ৬ বিঘা জমিতে কারেজ ও রোমানা জাতের আলু চাষ করেছেন। এতে সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিক মজুরিসহ মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এক মাস আগে তিনি ১২ টাকা কেজি দরে রোমানা জাতের এক হাজার কেজি আলু বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাজারে আলুর দাম ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজি। তার জমিতে এখনও প্রায় ১৫০ মণ আলু রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা।
রজলী বাজারের আলু ব্যবসায়ী (আড়তদার) মো. আব্দুস সালাম জানান, তিনি কৃষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন জাতের আলু কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠান। বর্তমানে ডায়মন্ড জাতের আলু ১৪ থেকে ১৫ টাকা, কারেজ ১১ থেকে ১২ টাকা, সাদা হলেন ১১ থেকে ১২ টাকা, স্যানসনিক ১০ থেকে ১১ টাকা এবং স্টিক ১৩ থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে কেনা হচ্ছে। এসব আলু বস্তাবন্দি করে ট্রাকে করে কিশোরগঞ্জ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঢাকা কাওরান বাজার, বগুড়া ও শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এতে প্রতি কেজি আলুতে তিনি ২৫ পয়সা কমিশন পান।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আব্দুল মতিন বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৩ হাজার ৮৪১ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। গত বছর এ জেলায় ১৪ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছিল। তিনি বলেন, পঞ্চগড় অঞ্চলের মাটি আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সার, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠে দেখা দেওয়া বিভিন্ন রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This

COMMENTS