
বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। উন্নত জাতের আলু আবাদ করে বেশি ফলন পেয়েছেন তারা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবারের মৌসুমে আলুর অতিরিক্ত উৎপাদন হওয়ায় উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের আলু চাষিদের আনন্দের মাত্রাটাও অনেক বেশি। অতীতের চেয়ে আলুর উৎপাদন বেশি হলেও ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বরাদ্দ না থাকায় অন্যভাবে সহায়তা করতে না পারলেও কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছেন। পুরো উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার ৮৫৬ হেক্টর জমিতে। এ পর্যন্ত চাষ হয়েছে ১১ হাজার একশত ৮৪ হেক্টর জমিতে।
সরেজমিনে আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন মাঠে দেখা যায়, আলু চাষীরা ক্ষেতে পরিচর্যা করছেন। উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম, পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর, ভোগনগর সাতোর, মরিচা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে মাঠে মাঠে আলু চাষীরা আলু ক্ষেতে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা গাছের গোড়ায় সার দিচ্ছেন কেউ জমিতে পানি দিচ্ছেন আবার কোন কোন আলুর ক্ষেতে বালানাশক স্প্রে করছেন আলু ক্ষেতকে রক্ষার জন্য। ফলন বাম্পার হলেও বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে মাঠে ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে। এতে শঙ্কায় পড়েছে কৃষক।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার আলুর বীজ ও বিভিন্ন উপকরণের দাম বেশী থাকার পরেও আলু চাষীরা ব্যাপক হারে আলুর আবাদ করেছেন। এই কারণে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। এই সব আলুর মধ্যে রয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের ও স্থানীয় জাতের আলু রয়েছে।
পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক অনীল চন্দ্র বলেন, এখন পর্যন্ত আলুর ক্ষেতে কোন সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি। মাঝে মাঝে দুই একটি গাছে গোড়া পচন দেখা দিয়েছে। তবে এটার জন্য কৃষি বিভাগ পচন রোধের জন্য স্প্রে দিতে বলেছে।
উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের আলু চাষী মো. জহুর হক বলেন, গতবারের তুলনায় এবার আলু আবাদে খরচ বেশী পড়েছে।
একই গ্রামের কৃষক বিধান চন্দ্র বলেন, আলুর ফলন ভালো হলে লাভ হবে বলে আশা করছেন।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, গতবারের তুলনায় এবার বাজারে আগাম জাতের আলুর দাম বেশী পেয়েছেন কৃষক। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোন সমস্যা হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আলুর ফলন ভালো হবে বলে আশা করছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, মাঠ পর্যায়ে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষনিক আলু ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং চাষীদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।