
বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট কিছুতেই কাটছে না। সরকার থেকে দাম বাড়ানো হলেও সংকট থেকে মুক্তি মিলছে না সাধারণ ভোক্তাদের। বিশেষ করে এক ও পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পেতে দোকানে দোকানে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। আর দুই ও তিন লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল মিললেও তার দাম অনেক বেশি।
এদিকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়ায় হতাশ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। দোকানিরা বলছেন, কোম্পানি প্রতিনিধিদের বারবার বলেও চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার কোন কোন কোম্পানি সামান্য পরিমাণ তেল দিলেও ক্রেতা পর্যায়ে চাহিদা নেই এমন পণ্য ধরিয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তারপরও মিল থেকে তেলের সরবরাহ এখনও স্বাভাবিক করছে কোন কোম্পানিই। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটার প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯৫ টাকা পর্যন্ত। আর পাঁচ লিটারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল বিক্রি মূল্য ৯শ' টাকা পর্যন্ত। প্রায় দুই মাস আগে সরকার লিটার প্রতি আট টাকা দাম বাড়ালেও সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকট দূর করা সম্ভব হয়নি।
পৌরশহরের জননী স্টোরের দোকানি হাফিজুর রহমান বলেন, গত দুই- তিন মাস ধরেই ডিলাররা চাহিদা মাফিক তেল সরবরাহ করছেন না। অর্ডার দিয়েও তেল পাচ্ছি না। ক্রেতারা তেল চাইলেও দিতে পারছি না। এক দফা দাম বেড়েছে তারপরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। আসন্ন রমজানকে ঘিরে আরেক দফা দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে অসাধু সিন্ডিকেট চক্র।
বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট নেই এমন তথ্য জানিয়ে পাইকারি বিক্রেতারা জানান, দাম বাড়ানোর পর থেকে বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। যদিও বোতলজাতের তেল পাওয়া গেলেও তেলের সঙ্গে অন্যান্য পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ না করলে মিলছে না তেল। গত সপ্তাহে ব্যারেল প্রতি সয়াবিন তেলের দাম এক হাজার টাকার বেশি কমেছে। তারা বলছেন, তারপরেও বোতলজাত তেলের সংকট কাটছে না কেন? গত বছরের ৯ডিসেম্বর সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৮ টাকা বাড়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর ফলে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হওযার কথা ১৭৫ টাকায়। তবে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় ঘোষিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে তা বিক্রি হচ্ছে। তার প্রভাব পড়েছে খোলা সয়াবিন তেলেও। সয়াবিন ও পামতেলের সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বাজারে দর বিবেচনায় নিয়ে পবিত্র রমজান মাসে পণ্যটির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে শুল্ক-কর অব্যাহতি দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই অব্যাহতির মেয়াদ আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ভোজ্যতেলের ওপর আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ মূসক ব্যতীত অন্য শুল্ক-করাদি প্রত্যাহার করা হয়। গত অক্টোবরে এমন আদেশ জারি করেছিল এনবিআর। তারপরও বোতলজাত সয়াবিন তেলের বাজার স্বাভাবিক না হওয়ায় ক্ষুব্ধ ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই। বোতলজাত সয়াবিন তেল নিতে আসা ক্রেতা আনারুল ইসলাম বলেন,কয়েকদিন যাবত তেল কিনতে এসে ঘুরে যাচ্ছি। এক বোতল তীর তেলের সঙ্গে চাউল বা অন্য পণ্য সামগ্রী না নিয়ে তেল দিচ্ছে না ব্যবসায়ীরা।