বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বীরগঞ্জে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনসহ গ্রেফতার ৩

বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরে বীরগঞ্জের দানিয়ূল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দানিয়ূল হত্যা মামলায় তদন্ত করতে গিয়ে খুলনা রেলস্টেশন থেকে আবু বক্কর নামে একজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর গোয়েন্দা পুলিশ আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে। আজ রোববার দিনাজপুর জেলা পুলিশ কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং এ তথ্য জানায়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আনোয়ার হোসেন প্রেস ব্রিফিং এ গণমাধ্যম কর্মীদের জানান জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও বীরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে সন্দেহভাজনদের অবস্থান খুলনা ও বাগেরহাট এলাকায় শনাক্ত করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি ডিবির একটি চৌকস টিম খুলনা ও বাগেরহাটে অভিযান চালায়। অভিযানকালে প্রথম দফায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার সম্ভব না হলেও এক অভিযুক্তের ভাড়া বাসা থেকে একটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ১৬ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলা পুলিশের একটি সমন্বিত টিম খুলনা রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মো. আবু বক্কর ওরফে বাদশাকে (২৬) র‌্যাব–৬ এর সহযোগিতায় গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর শহরের উত্তর বালুবাড়ী এলাকা থেকে মো. শাহ আলম কল্লোলকে (৫৬) এবং পরবর্তীতে বীরগঞ্জের আরাজি চৌপুকুরিয়া এলাকা থেকে মোছা. সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপিকে (৪১) গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া পরস্পর যোগসাজশে আবু বক্কর ওরফে বাদশার মাধ্যমেষ অর্থের বিনিময়ে পেশাদার অপরাধীদের ভাড়া করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ঘটনাস্থল সম্পর্কে পূর্বপরিচিতি ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে অপরাধীরা ভোরে দানিয়ূলের বাসায় প্রবেশ করে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় শাহ আলম কল্লোল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নিহত দানিয়ূল ইসলাম পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ ভোররাতে নিজ শয়নকক্ষে তাকে মৃতঅবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি শুরু থেকেই রহস্যজনক ও ক্লুলেস হিসেবে বিবেচিত ছিল। গ্রেফতারকৃত আবু বক্করের তথ্য অনুযায়ী দানিয়ূলের বাসার তালা চাবি তার বাড়ির সামনে একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This