
বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় জনবল নেই। দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয়টিতে মাত্র তিনজন কর্মকর্তা দিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে আসছে। এতে করে দাফতরিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ও বিঘ্নিত হচ্ছে। এ ছাড়া মৎস্য বিষয়ক সেবা পেতে গিয়ে মৎস্য চাষিদের অবর্ননীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরেজমিন গিয়ে ওই কার্যালয়ে কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাওয়া যায়নি। এই কার্যালয়ে ৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজনীয় থাকলেও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়া বাকি সবকটি পদ শূন্য রয়েছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই কার্যালয়টিতে ছয়টি অনুমোদিত পদ রয়েছে। এরমধ্যে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও অফিস সহায়ক এর পদটি সৃজন হলেও এখনো এই পদে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু হয়নি। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৩ মার্চ থেকে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, ২০২৩ সালের ১১জানুয়ারি থেকে অফিস সহায়কের পদটি শূন্য রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে দাফতরিক বার্ষিক কর্ম সম্পাদন চুক্তি কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন, মাঠ পর্যায়ে মৎস্য আইন বাস্তবায়ন, মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের পরামর্শ প্রদান, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদযাপন, মৎস্যজীবীদের তালিকা হালনাগাদকরণসহ নানাবিদ কার্যক্রম মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মৎস্যচাষি বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসে গেলে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তাকে অফিসে নিয়মিত পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে আইনের প্রয়োগ না হওয়ায় জলমহালে বিষ ঢেলে মাছ নিধন ও জলমহালের তলা শুকিয়ে মাছ নিধন বন্ধ হচ্ছে না। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ না সে থাকায় মাছের উৎপাদন দিন দিন কমে আসছে।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদে একজনকে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি সেখানে যোগদান করার কথা রয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফজল ইবনে কাওছার আলী বলেন, এই কার্যালয়টিতে জনবল সংকট থাকায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে আমাকে একাই সব কাজ করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দাফতরিক কাজকর্মসহ মৎস্য বিভাগের নানাবিদ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এব্যাপারে, দিনাজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান সরকারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।