বীরগঞ্জে বোরো ধান রোপনের ধুম


বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বোরো ধান রোপনের ধুম পড়েছে। কৃষকেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বোরো ধান রোপনের ব্যস্ততা। বিগত কয়েক বছর ধরে বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় এবারও ইরি-বোরো ধান আবাদে ঝুঁকছে কৃষকরা। দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে এখানে বেশ দেরিতে বোরো ধানের চারা জমিতে রোপণ করা হয়।
এখন দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে চলছে বোরো ধানের কচি চারা রোপণের ধুম। আর যারা কিছুটা আগেভাগে জমিতে চারা রোপণ করেছেন, তারা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন-জমির আগাছা পরিষ্কার, কীটনাশক স্প্রে আর সার প্রয়োগের কাজে। আর কিছুদিন পরই বাতাসের সঙ্গে দোল খাবে কচি বোরো ধান। কৃষকদের আশা এবার এখনো পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকায় আগের বছরের তুলনায় এবারও ভালো ধান ঘরে তোলতে পারবেন তারা।
এ উপজেলায় জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি আবাদ করা হয়। প্রধান আবাদ দুই মৌসুমের ধান। বর্ষাকালে প্রকৃতিনির্ভর আমন আর রবি মৌসুমে সেচনির্ভর বোরো ধান। ছোট-বড় সব কৃষকই এ দুই মৌসুমে ধান আবাদ করে থাকেন। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবারো উপজেলার শিবরামপুর, পলাশবাড়ী, শতগ্রাম,পাল্টাপুর, সুজালপুর, নিজপাড়া, মোহাম্মদপুর,ভোগনগর, সাতোর,মোহনপুর ও মরিচা ইউনিয়নসহ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মাঠজুড়ে এখন কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করছে। চলতি বোরো মৌসুমে ইরি বোরো ধানের চারা রোপণে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করছেন চাষিরা। চারদিকে সবুজ চারা ও কৃষকের প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামাঞ্চল।
আজ মঙ্গলবার উপজেলার পৌরশহরের বলাকা মোড় এলাকায় মাঠ গুলোতে এ দৃশ্য দেখতে পাওয়া যায় কেউ জমি তৈরি করছেন, কেউবা সেচ দিচ্ছেন, আবার অনেকে শ্রমিক নিয়ে সারিবদ্ধভাবে ধানের চারা রোপণ করছেন। প্রতিবছর আগাম জাতের ধানের চাষাবাদ করে থাকেন। বৃষ্টি পানির অপেক্ষায় না থেকে সেচ পাম্পের পানি সেচ দিয়ে এই ধানের চাষ করে চাষাবাদ করে। তারা ইতিপূর্বেও লাভবান হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও পর্যাপ্ত সেচ সুবিধা থাকায় এ বছর ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সময় আমরা ব্রি ধান -২৮,ব্রি ধান -২৯,ব্রি ধান -৮৯,ব্রি ধান -৯২,জাতের চারা রোপণ সম্পন্ন করতে পারলে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
সুজালপুর ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের কৃষক সতীশ চন্দ্র বর্মন বলেন,গত মৌসুমে এক বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছিলাম। ধান বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছি। এবছরও আশা রাখছি আবাদ ভালো হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সময়ে সার প্রয়োগ ও সেচ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত তদারকি করছেন।
ইরি বোরো ধানের চারা রোপণকে ঘিরে বীরগঞ্জের মাঠজুড়ে এখন কর্মচাঞ্চল্য বিরাজ করছে। কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রমে সবুজে ভরে উঠছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি,যা আগামীর সমৃদ্ধ ফসলেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: শরিফুল ইসলাম জানান,চলতি ইরি বোরো মৌসুমে হাইব্রিড ও উফশী মিলে ১৭ হাজার ৭ শত ৫৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে। এর মধ্যে ১৯ হাজার ৭ শত ৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান অর্জন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত মৌসুমে বীরগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিলো। এবছরও এখনো পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। সঠিকভাবে পরিচর্যা করতে পারলে এবার আমরা বাম্পার ফলনের আশা করছি।
