শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মধ্যপাড়া খনিতে পাথর উত্তোলন রেকর্ড ছাড়িয়েছে

oppo_0

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের একমাত্র বাণিজ্যিক উৎপাদনে থাকা দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) গত অক্টোবরে মাসিক উৎপাদনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে অতিক্রম করে পাথর উত্তোলনের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত অক্টোবর মাসে অক্টোবর মাসে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন মাসিক সর্বোচ্চ রেকর্ড পরিমাণের পাথর যা মাসিক পাথর উত্তোলনের বিস্ময়কর রেকর্ড তৈরী করেছে খনির দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জার্মাানীয়া-ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি)। বিষয়টি নিশ্চত করেছেন মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (মধ্যপাড়া পাথর খনি) (এমজিএমসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চ.দা.) মো. ফজলুর রাহমান। জানা গেছে, গত ২০০৭ সালে পাথর খনির বাণিজ্যিক উত্তোলনের শুরু থেকে পেট্রোবাংলার মাসিক পাথর উত্তোলনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সকল মাসেই অধিক পরিমাণে পাথর উত্তোলন করেই চলেছে জিটিসি। চুক্তি অনুযায়ী জিটিসিকে ৬ বছরে খনি থেকে পাথর উত্তোলন করতে হবে ৮৮ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিকটন; সেই হিসেবে প্রতি মাসে উত্তোলন করতে হবে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টনের কিছু বেশি। সেখানে জিটিসি প্রতি মাসেই অধিক পরিমাণে পাথর উত্তোল করছে। যার ফলশ্রুতিতে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে অতিতের সকল রেকর্ড ভেঙে প্রায় প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পাথর উত্তোলন করে যা লক্ষ্যমাত্রার অধিক।
সূত্র জানায়, সরকারি ও বেসরকারী বিভিন্ন ব্যবস্থাপনায় মধ্যপাড়া পাথর খনিটি ইতিপূর্বে ধারাবাহিক লোকসানে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পাথর খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গত ২০১৩ ইং সালে জার্মাানীয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম (জিটিসি) এর সাথে খনি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা, রক্ষনাবেক্ষন, উৎপাদন এবং পরিচালনা চুক্তি হয়। জিটিসি খনির উন্নয়ন ও উৎপাদনকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে পাথর উত্তোলন শুরু করে এবং প্রথম দফা চুক্তির মেয়াদে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা, কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতা সহ নানা প্রতিকূলতার মাঝেও জিটিসি গত ২০১৮- ২০১৯ অর্থ বছর থেকে টানা ৫ অর্থ বছরে খনিটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। যার ফলশ্রুতিতে পাথর উত্তোলনে জিটিসি’র এই সফলতার পর প্রথম দফা চুক্তির মেয়াদ শেষে জিটিসি’র সাথে নতুন করে আবারো খনি কর্তৃপক্ষের ০৬ বছরের জন্য চুক্তি হয়। দ্বিতীয় দফা চুক্তির প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে নির্ধারিত সময়ে বাৎসরিক উত্তোলনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ পাথর উত্তোলন করে জিটিসি তাদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। এবং ধারাবাহিকভাবে সেই দক্ষতা ও সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। খনি সূত্র জানায়, মধ্যপাড়া পাথর খনি থেকে উৎপাদনের মাসিক এই নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টির ফলে খনিটি বর্তমানে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার ফলে সরকারের বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হচ্ছে। কিন্ত খনি কর্তৃপক্ষের আয়ত্বাধীন পাথর বিক্রয় অতিমাত্রায় ধীর গতিতে হওয়ার ফলশ্রুতিতে পাথর বিক্রি বাড়ছে না। বর্তমানে খনির বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১০ লাখ মেট্রিক টনের অধিক পাথর মজুদ রয়েছে। এদিকে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, খনি থেকে বর্তমানে মাসিক পাথর উত্তোলনের ধারাবাহিক এই রেকর্ড এর তুলনায় পাথর বিক্রি কম হওয়ার ফলে পাথর রাখার জায়গার অভাবে আবারো খনিটি বন্ধ হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উত্তোলিত পাথর রাখার জায়গার অভাবে খনির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জিটিসি। খনি বন্ধ হলে সরকারের রাজস্ব কমে যাওয়ার পাশাপাাশি খনির পাথর ব্যবসা এবং খনিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্য ও শ্রেনী পেশার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রায় ৫ হাজার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This