
নিজস্ব প্রতিবেদক
এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিলাহাট কলেজ চত্ত্বরে আয়োজিত দুইদিন ব্যাপী পিঠা মেলা জাকজমকভাবে সমাপ্ত হয়েছে।
বাঙালির চিরচেনা ঐতিহ্য ধরে রাখতে রোববার ও সোমবার কলেজ চত্ত্বরে মাদিলাহাট কলেজ এবং সিদ্দিশী উচ্চ বিদ্যালয়, সিদ্দিশী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ভোরের আলো বিদ্যা নিকেতনের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী এই পিঠা মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা স্টল নিয়ে নানন রকম পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেন।
এদিকে সোমবার বিকেলে কলেজ চত্বরে আয়োজিত পিঠা মেলা পরির্দশন শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পুরস্কার বিতরণ করেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মো. আল কামাহ তমাল।
এসময় মাদিলাহাট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবু শহীদসহ আও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মাস্টার। সিদ্দিশী উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মো.মিজানুর রহমান। সিদ্দিশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল ইসলাম। ভোরের আলো বিদ্যানিকেতনের পরিচালক মো. মাসুদ রানা ও ৪ নং বেতদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম।
এই উৎসব উপভোগ করতে মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমান বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আয়োজকরা মনে করেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগ ব্যাপক সাড়া মিলেছে। প্রতি বছরই এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশা করেন তারা। আয়োজক কমিটি ও দর্শনার্থীরা জানায়, মুখরোচক পিঠার স্বাদ নেওয়া ভোজন বিলাসী বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ।
পিঠা মেলায় স্থান পেয়েছে জিরা পিঠা, ভাপা, নকশি, চিতই, পাঠিসাপটা, জামাই বরণ পিঠা, ডাল ও তালের পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের পিঠার সমারাহ। আর এসব গ্রাম বাংলার বিভিন্ন পিঠার পসরা সাজিয়ে বসেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় পিঠার পরিচয় করিয়ে দিতে এমন আয়োজন বলে জানান আয়োজকরা। পাশাপাশি তারুণ্যের যে উৎসব। সেই উৎসব যেন সারাবছর জুড়ে থাকে, সেটাই প্রত্যাশা করেন তারা।
মাদিলাহাট কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধক্ষ্য মো. আবু শহীদ জানায়, পিঠা মেলায় স্থান পেয়েছে জিরা পিঠা, ভাপা, নকশি, চিতই, পাঠিসাপটা, জামাই বরণ পিঠা, ডাল ও তালের পিঠাসহ তিন শতাধিক পিঠার সমারাহ। উৎসবে আমেজ নিতে ভিড় জমান আশপাশ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কেউ কিনছেন, কেউ খাচ্ছেন, আবার কেউবা নিয়ে যাচ্ছেন প্রিয়জনের জন্য। পিঠা পুলির এ আয়োজনটি তরুণ প্রজন্মকে আকর্ষণ করে। পাশপাশি বিভিন্ন ধরনের পিঠা তৈরি করে স্টলে বিক্রি করার মাঝেই এক আনন্দ তাদের। এতে তরুণরা বিভিন্ন পিঠার সাথে পরিচয় হতে পেরে খুশি তারা।