মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে অযত্নে বেড়ে ওঠা কচুরিপানা ফুল


পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ বিল-ঝিলের জলাভূমিতে এখন মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা কচুরিপানা ফুল। বর্ষা মৌসুম শেষে বিল-ঝিল, ডোবা-নালারজমে থাকা পানিতে ফুটে থাকা সাদার মাঝখানে বেগুনি রঙের কচুরিপানা ফুলের অপরূপ শোভা প্রকৃতি প্রেমীদের মন জয় করেছে। উপজেলার শানেরহাট ইউনিয়ন থেকেক পাঁচগাছি ইউনিয়ন রোডে নলেয়া নদীর চারপাশে নীচু জলাভূমিতে এবং আরো এগিয়ে বামনীর বিলে বিস্তীর্ণ এলাকায় এমনই সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায়। ওই রাস্তায় চলাচলকারী মানুষের গন্ধবিহীন কচুরীপানা ফুলের মনোলোভা দৃশ্য। প্রকৃতির এ নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে স্থানীয় মানুষ ও আশপাশের এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীরা। বিলের সবুজ জলজ উদ্ভিদ ও পানির বুকে ভেসে থাকা কচুরিপানা ফুল এক অপূর্ব শৈল্পিক পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। মনে হয় প্রকৃতি নিজেই যেন রঙতুলির আঁচড়ে আঁকা এক জলরঙের ছবি। জাহাঙ্গীরাবাদ সাহাপুর আইডিয়াল কিন্ডার গার্টেন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র দিব্য সরকার, রাহাদুজ্জামান ও মিসবাহ হাসান জানায়,‘কচুরিপানাকে এতদিন আগাছা বলেই জানতাম। সেই কচুরিপানার ফুলে যে এত মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে, তা এখানে না দেখলে বুঝতাম না।’ কচুরিপানা ফুলের এই সৌন্দর্য শুধু প্রকৃতিপ্রেমীদেরই নয়, এলাকাবাসীর কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। জাহাঙ্গীরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক লিটন মিয়া জানান, এই ফুলগুলো তাদের দৈনন্দিন জীবনে এক ধরণের প্রশান্তি এনে দেয় এবং গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশকে আরও জীবন্ত ও মনোরম করে তোলে। স্থানীয় বাসিন্দা তছলিম উদ্দিন(৫৫) জানান, প্রতিদিন বিকালে এই বিল পাড়ে অনেক মানুষ আসে। মনে হয় মেলা বসেছে। আমাদেরও আনন্দ লাগে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে পরিবেশের প্রতি যত্নবান হতে হবে এবং বিল ঝিলের সংরক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
