শুক্রবার, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মুরগির ফার্মের বর্জ্যে ফসলহানি, ক্ষতিপূরণ দাবি কৃষকদের

 

নিজস্ব প্রতিবেদক
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পল্লীতে একটি পোল্ট্রি ব্রিডার ফার্মের বর্জ্যে আট বছর থেকে ফসলের ক্ষতি হলেও স্থানীয় আওয়ামী নেতাদের ম্যানেজ করায় ক্ষতি পূরণ পায়নি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। দীর্ঘ সময় ধরে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হলেও কর্ণপাত করেনি কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৬নং বেতদিঘী ইউনিয়নের গলাকাটা সংলগ্ন বোরঙ্গা এলাকায় তামিম হ্যাচারী লিমিটেড পোল্ট্রি ব্রিডার ফার্ম নামের একটি মুরগির ফার্মের পূর্ব পাশে বড় বড় গ্যাস ফ্যানের মাধ্যমে বাতাস বের করা হয়। ফার্মের গরম বাতাসের সাথে মুরগির পালক, বিষ্ঠা ও অন্যান্য বর্জ্য জমিতে পড়ে। এতে ফার্ম সংলগ্ন ২০-২৫ বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন ব্যাহত হয়। প্রতিবছর ধান রোপনের পর সব ধরনের সার কিটনাশক প্রয়োগ করে ধান বের হলেও তাতে দানা হয় না। এমন কি সেই জমির খড়ও গবাদি পশু খায় না। ২০১৭ সাল থেকে এমন ক্ষতির মুখে পড়ে বার বার ক্ষতি পূরণের দাবি করলেও কোন গুরুত্ব দেয়নি ফার্মের মালিক পক্ষ। উল্টো উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেতদিঘী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহ মো. আব্দুল কুদ্দুস কে ম্যানেজ করে দিব্যি ব্যবসা করে আসছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

এদিকে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া স্থানীয় কৃষকরা ক্ষতিপূরণের দাবিতে আজ রোববার বেলা ১১টায় ওই ফার্মের সামনে মানববন্ধন করেছেন। তারা পূর্বের ক্ষতি পূরণের পাশাপাশি আর যাতে ক্ষতি না হয় এজন্য উঁচু প্রাচীর নির্মাণ অথবা ফ্যানের মুখ অন্যদিকে ঘুরানোর দাবি করেছেন। এ জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এসময় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক জামেদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ আট বছর থেকে আমরা কোন ধান উৎপাদন করতে পারছিনা। পর্যাপ্ত খরচ করে গাছ পরিপক্ক হলেও তাতে চালের দানা হয় না। ফার্মের মালিক পক্ষকে বার বার জানালেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, বেতদিঘী ইউনিয়নের ভাটপাইল মৌজার প্রায় ২০ জন কৃষকের ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আসছে। এর আগেও ক্ষতিপূরণ চেয়েও পাওয়া যায়নি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় সাইদুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, কামাল পাশা, মেজবাউল ইসলাম সহ ক্ষতিগ্রস্থ অনেকে।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেতদিঘী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহ মো. আব্দুল কুদ্দুস এর ইউনিয়ন কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। তার মুঠো ফোনটিও বন্ধ ছিলো।
অভিযুক্ত তামিম হ্যাচারী লিমিটেড এর মালিক বা ব্যবস্থাপককে না পাওয়ায় কথা হয় স্টোর কিপার মোমিনুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ফার্মের সাথে আমাদেরও জমি আছে। কৃষকরা যতটা ক্ষতির কথা বলছে ক্ষতির পরিমাণ তার তুলনায় অনেক কম। ফার্মটি পরিচালিত হয় বগুড়া থেকে। আমরা কর্মচারী মাত্র। মালিকের সাথে কথা হয়েছে, খুব দ্রুত আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করবেন।

×

শেয়ার করুন:

Download High Quality Image
Share This