যৌতুকের বলি ইভার স্বামীর শাস্তির দাবিতে সহপাঠিদের মানববন্ধন


বোচাগঞ্জ প্রতিনিধি
দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জোবাইয়া আক্তার ইভাকে যৌতুকের কারণে গত ০১ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে তার শ^শুরবাড়ী ফুলবাড়ী থানার সহড়া বেজাই মোড় গ্রামে স্বামী জায়েদ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা নির্যাতন করে হত্যা করেছে এমন অভিযোগ এনে হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে সেতাবগঞ্জ মহিলা কলেজের প্রধান ফটকের সামনে শত শত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও ইভার পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধন করেছে।
আজ (মঙ্গলবার) মানববন্ধনে মৃত ইভার বাবা বলেন, আমার মেয়ে জোবাইদা আক্তার ইভা ও দিনাজপুর ফুলবাড়ী থানার সহড়া গ্রামের বসবাসকারী মো. রুহুল আমিন এর পুত্র জায়েদ হোসেন ভালবাসার সম্পর্ক ধরে গত ২০ মাস পূর্বে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে প্রায় সময় ইভাকে নির্যাতন করত জায়েদ ও তার পরিবারের সদস্য। মেয়ের সুখের কথা ভেবে সেসময় ঋন করে দেড় লক্ষ টাকা ও আনুষঙ্গিক জিনিস পত্র এবং কিছু সোনার গহনাও দিয়েছিল ইভার দরিদ্র পিতা জহির রায়হান। ইভার স্বামী জায়েদ মোবাইল ক্যাসিনো খেলায় আসক্ত ছিল। টাকার প্রয়োজন হলেই ইভাকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিত। টাকা এনে না দিলেই শুরু হত নির্যাতন। সেই নির্যাতনে ধারাবাহিকতায় গত ০১ নভেম্বর দিবাগত গভীর রাতে জায়েদ হোসেন ও তার পরিবারে সদস্যরা ইভাকে নির্মম ভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য লাশ হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্মরত চিকিৎসক বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ফুলবাড়ী থানাকে অবহিত করেন। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট করে ও ময়না তদন্ত শেষে ইভার পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করলে ০২ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১১টায় বোচাগঞ্জের গোপালপুর নিজ গ্রামে ইভাকে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানায় গত ২নভেম্বর একটি ইউডি মামলা হয়েছে। অপর দিকে ইভার পিতা জহির রায়হান জানিয়েছেন, মামলা না করার জন্য জায়েদ এর পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদর্শন করায় তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাদের নিরাপত্তা এবং মেয়ে ইভার হত্যার ন্যায় বিচার পেতে পুলিশ প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
