রংপুরে আড়াই বছর ধরে স্বাস্থ্যখাতের ৪৬ কর্মচারীর বেতন বন্ধ
#পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই ৯ জন


কামরুল হাসান জুয়েল, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুর জেলার ৮ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ৪৬ জন কর্মচারী ৩০ মাস (আড়াই বছর) ধরে বেতনভাতা পাচ্ছেন না। বেতন না পেয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরই ৯ জন। এ ঘটনায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওই কর্মচারীরা মানববন্ধন করলেও কোন ব্যবস্থা হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জেলা সিভিল সার্জন অফিস ঠিকাদারের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগ করা হয়েছে। এরমধ্যে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জনসহ আরও ৭ উপজেলায় মোট ৪৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। রংপুর এবং গাইবান্ধা জেলায় আউটসোর্র্সিংয়ে ওই নিয়োগের দায়িত্ব পান গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান “সাকিব ট্রেডার্স”। প্রায় ৩০ মাস ধরে রংপুরের ৪৬ জন কর্মচারী বেতনভাতা না পাওয়ায় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী হারুন অর রশিদের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কোন সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে আউটসোর্সিংয়ে গাইবান্ধা জেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়োগপ্রাপ্ত ৭২ জন কর্মচারী বেতন ভাতা না পাওয়ায় সাকিব ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। বেতন না পেয়েও খেয়ে না খেয়ে প্রায় ৩০ মাস ধরে চাকুরী করে যাচ্ছেন তারা। ওই কর্মচারীরা প্রতিমাসে ১৬ হাজার ১৩০ টাকা করে বেতন ভাতা পাবেন বলে জানা গেছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত মজনু মিয়া (পরিচ্ছন্নতা কর্মী) জানান, ৩০ মাস ধরে বেতন পাচ্ছি না। আমাদের অসুখ-বিসুখেও কোন ছুটি নেই। ধার-কর্জ করে সংসার চালিয়ে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারও আমাদের সাথে কোনও কথা বলেন না। প্রায় একই কথা বলেন, জেবু আক্তার, আব্দুল আলিম মিয়া।
ঠিকাদার হারুন অর রশিদ বলেন, আমি আমার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের চপ্রুরী রক্ষা এবং এক বছরের বেতনভাতা প্রদানের জন্য হাইকোর্টে মামলা করেছি। এখনো রায় পাইনি। বেতন ছাড়াই তারা প্রায় ৩০ মাস চাকুরী করলো, তার কি হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি উল্টো বলেন, ওরা কার নির্দেশে চাকরী করেছে? পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর হোসেন বলেন, আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকুরি প্রায় দুই বছর আগে শেষ হলেও তারা বিনা বেতনেই কাজ করছেন। যদি নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়, তাহলে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই লোকজনদের জন্য সুপারিশ করবো। রংপুরের সিভিল সার্জন মোস্তফা জামান বলেন, আউটসোর্সিংয়ে এক বছরের জন্য চুক্তিতে নিয়োগ করা হয়। ওই চুক্তিতে এখন কোন কর্মচারী আমাদের অধীনে নেই। যারা বলছে বেতন ছাড়াই ৩০ মাস চাকুরী করছে, সেটা তাদের দায়দায়িত্ব। আগের সিভিল সার্জন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর
চেষ্টা করেছিলেন বলে শুনেছি। কিন্তু সেটা হয়নি।
