
রংপুর প্রতিনিধি
রংপুরে সরকার নির্ধারিত দামে ডিম বিক্রি শুরুর পরও থামানো যাচ্ছে না সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করে ডিমের দাম বৃদ্ধির অভিযোগ তুলছেন ভোক্তাসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা। বাজার নিয়ন্ত্রণসহ সিন্ডিকেটে ভাঙতে তৎপরতায় বাজার নিয়ন্ত্রণে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স। আজ (বুধবার) দুপুরে রংপুর নগরীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বুড়িরহাট এলাকায় ভোজ্যতেল ও পাইকারি মুরগি বিক্রির পোল্ট্রি ফার্মে অভিযান পরিচালনা করে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে সরকারি এই সংস্থাটি। এতে নেতৃত্ব দেন সহকারী পরিচালক আফসানা পারভীন ও মোস্তাফিজার রহমান। এর দুদিন আগে আলমনগর এলাকায় পাইকারি মুরগি বিক্রির দুটি ফার্মে অভিযানে ১৭ হাজার টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বিশেষ টাস্কফোর্সেও ডিমের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পারছে না সরকার। এর মধ্যে রংপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ভিআইপি শাহাদাৎ পোল্ট্রি ফার্মে অভিযান চালায় টাস্কফোর্স। এ সময় সরকার নির্ধারিত দামের থেকে বেশি দামে ডিম বিক্রি ও মূল্য তালিকা না থাকায় ওই পোল্ট্রি ফার্মকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু জরিমানা করেও সিন্ডিকেট ভাঙতে পারছে না। রংপুর মহানগর রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার ফরিদা সুলতানা জানান, বর্তমানে বাজারে ডিমের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ আসছে। বাজারে অভিযান চালানো হলে ব্যবসায়ীরা খামার পর্যায়ে দাম বেশি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে সদরের বড় ডিম উৎপাদনকারী ভিআইপি শাহাদত পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারিতে অভিযান চালানো হয়। সেই পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারির মালিকের জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার প্রতি পিস ডিম ১০ টাকা ৫৮ পয়সা মূল্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু ওই পোল্ট্রি ফার্ম সরকার নির্ধারিত মূল্য মানছে না। তারা তার চেয়েও বাজারে ১২-১৩ টাকার বেশি দামে ডিম বিক্রি করছে। এ কারণে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ফার্মের মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে বিশেষ টাস্কফোর্স ছাড়াও বাজার তদারকি ও কারসাজি রুখতে মাঠে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অন্যদিকে গত রবিবার থেকে রংপুরে সরকারি মূল্যে ডিম বিক্রি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের যৌথ উদ্যোগে বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্যোগ নিয়েছে।
রংপুর সিটি বাজারের ব্যবসায়ী বাবলু মিয়া ও রতন সরকার জানান, ডিমের সরবরাহে ঘাটতি রয়েছে। তাই বেশি দামে কিনে তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। মূলত এ কারণেই দাম বেড়েছে। আবার বাজারে ৫-৬ বার ডিম হাত বদলও হচ্ছে। এটাও দাম বাড়ার কারণ।