সোমবার, ১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসন মসজিদের খতিব থেকে সংসদে মাওলানা নুরুল আমিন

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
মসজিদের খতিব থেকে সংসদে গেলেন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নুরুল আমিন। অপরদিকে দূর্গেই জামানত হারালেন জাপা প্রার্থী নুর আলম যাদু মিয়া।
গত ১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন মাওলানা নুরুল আমিন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন বিএনপির রংপুর জেলা আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১৯ ভোট। জাপা প্রার্থী নুর আলম যাদু মিয়া ১ হাজার ২৬৪ ভোট পেয়ে হয়েছেন চতুর্থ। মোট আট প্রার্থীর মধ্যে জাপা প্রার্থীসহ অপর পাঁচজন প্রার্থীও জামানত হারিয়েছেন। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জয়লাভ করায় রাজনৈতিক দলগুলো কোনভাবেই হিসার মিলাতে পারছেন না।
নবনির্বাচিত এমপি মাওলানা নুরুল আমিন পেশায় বেসরকারী চাকুরীজীবি। পীরগঞ্জ উপজেলা সদরে ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি ইসলামী বক্তা হিসেবেও বেশ পরিচিত। রংপুর জেলা জামায়াতে কর্মপষিদসদস্য এবং মাজলিসুল মুফাসসিরিন এর কেন্দ্রীয় কমিটির জেনারেল সেক্রেটারি তিনি। এছাড়াও উপজেলার আলতাবনগর জামে মসজিদের খতিব (ঈমাম) হিসেবেও কর্মরত আছেন। এমপি নির্বাচিত হওয়ার পরদিনও তিনি উপজেলার আলতাব নগর জামে মসজিদে জুম্মার নামাজে ঈমামতি করেছেন। সেদিন সেখানে মুসল্লিদের ঢল নেমেছিল। মসজিদটির ভেতর বাহির কোথাও তিল ধারণের ঠাঁয় ছিল না।
১৯৯৭ সালে তিনি ঈমামতি শুরু করেন। শুরুতেই পীরগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাজার জামে মসজিদে, বর্তমানে উপজেলার চতরা ইউনিয়নের দৃষ্টিনন্দন আলতাব নগর জামে জামে মসজিদের খতিব হিসেবে কর্মরত আছেন।
নির্বাচনে জয়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবনির্বাচিত সাংসদ মাওলানা নুরুল আমিন বলেন, ভোটার ভাই ও বোনেরা আমাকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচিত করায় আমি পীরগঞ্জবাসীর নিকট কৃতজ্ঞ। এখন আমি ১১ দলের এমপি না, আমি এ উপজেলার সবার এমপি। আমি সবাইকে সাথে নিয়ে পীরগঞ্জ কে নুতন ভাবে সাজাতে চাই।
তিনি আরো বলেন, আল্লাহ পাকের রহমত ছাড়া কোন কিছু সম্ভব না। আল্লাহ পাক মেহেরবানী করে আমাদেরকে বিজয় দান করেছেন। যারা সম্মান দিয়ে আমাকে এ দায়িত্ব প্রদান করেছেন। তাদের এই সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধা ও মর্যাদা রেখেই প্রতিদ্বন্দ্বি যত প্রার্থী আমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, আমি সকলকে সাথে নিয়ে পীরগঞ্জ গড়তে চাই। আমার কাছে দলীয় ব্যক্তি বিবেচ্য বিষয় নয়। শহীদ আবু সাঈদের রক্তস্নাত এই জমিনে আমরা এই বিজয় পেয়েছি। এটা আমার বিজয় না, এটা পীরগঞ্জবাসীর বিজয় বলে আমি মনে করি।

Share This

COMMENTS