
বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
শীতের কুয়াশা ভেজা সকালে বোচাগঞ্জ উপজেলার হাটরামপুর গ্রামের মাঠে ঢুকলেই চোখে পড়ে ব্যতিক্রমী এক দৃশ্য। সবুজ পাতার মাঝে উজ্জ্বল হলুদ রঙের ফুলকপি নজরে পড়ছে। পরিচিত সাদা ফুলকপির বাইরে এই ভিন্ন রঙের সবজি এখন বোচাগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে নতুন আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। মাঠে চাষ করা হলুদ রঙের ফুলকপি বাজারে ভালো চাহিদা, তুলনামূলক বেশি দাম এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের কারণে কৃষকদের মধ্যে দ্রুত আগ্রহ তৈরি করছে। লাভজনক সম্ভাবনা থাকায় দিন দিন আরও বেশি কৃষক এ চাষে ঝুঁকছেন।
হাটরামপুর গ্রামের কৃষক জামাল ইসলাম এই পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তিনি শুধু একজন কৃষকই নন, একই সঙ্গে বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর রনগাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার উন্নয়নের পাশাপাশি আধুনিক ও লাভজনক কৃষি উদ্যোগে নিজেও এগিয়ে এসেছেন তিনি।জামাল ইসলাম জানান, এ বছর তিনি সাদা ফুলকপির পাশাপাশি ২০ শতক জমিতে হলুদ রঙের ফুলকপি চাষ করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তিনি বীজ ও চারা সহায়তা পেয়েছেন। চাষাবাদে তার অতিরিক্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি হলুদ রঙের ফুলকপি ৪০–৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে তার সম্ভাব্য আয় ৫০–৬০ হাজার টাকা হবে বলে তিনি আশা করছেন।
তিনি বলেন,সাদা ফুলকপির দাম অনেক সময় কমে যায়। কিন্তু হলুদ রঙের ফুলকপির আলাদা কদর আছে। ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে কিনছেন। খরচ কম, লাভ ভালো—এই কারণেই আমি এই চাষে আগ্রহী হয়েছি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এটি ‘উচ্চমূল্যের নিরাপদ সবজি উৎপাদন প্রযুক্তি প্রদর্শনী’ কার্যক্রমের আওতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। রবি মৌসুম ২০২৫–২৬ এ রঙিন ফুলকপি (জাত: রঙ্গীলা) চাষ করা হচ্ছে। প্রদর্শনীটি বাস্তবায়ন করছে হাটরামপুর টেকসই কৃষি উন্নয়ন কৃষক গ্রুপ। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা হলো দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত), কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বোচাগঞ্জ।
বোচাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার সাহা বলেন,উপজেলায় সাদা ফুলকপির পাশাপাশি রঙিন ফুলকপি চাষ করা হচ্ছে। বোচাগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া এ চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে রঙিন ফুলকপি চাষ আরও সম্প্রসারিত হলে এটি কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বোচাগঞ্জের কৃষকরা মনে করছেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও ধারাবাহিক সহায়তা পেলে রঙিন ফুলকপি শুধু একটি বিকল্প ফসল নয়, বরং এই অঞ্চলের উচ্চমূল্যের নিরাপদ সবজি উৎপাদনের একটি স্থায়ী সম্ভাবনায় পরিণত হতে পারে।